প্রধান সূচি

বাগেরহাটে পরিত্যাক্ত ভবনে চলছে পাঠদান

বাগেরহাটে পরিত্যাক্ত ভবনে জীবনের ঝুকি নিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা  ব্যবস্থা। জেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে উন্নয়নের ছোয়া লাগলে ও সদর উপজেলার এস.বি. নাটইখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি তা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ১৯৪৬ সালে এই জনপদের মানুষের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা গ্রহনের জন্য বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে ২১৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত আছে। ১০ জন শিক্ষক তাদের আন্তরিকতার মাধ্যমে পাঠদানে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি বছর এ বিদ্যালয়ের জেএসসি ও এসএসসি’র ফলাফল সন্তোষ জনক রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোয়ায়েবুল ইসলাম জানান, এ বিদ্যালয়ের ৩টি ভবনে বর্তমানে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৩টিই পরিত্যাক্ত। ১৯৬৩ সালের একটি ও ২০০৪ সালের ২টি ভবন রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ২০০৪ সালের পর থেকে এই বিদ্যালয়ে কোন প্রকারের মেরামতের কাজ করতে তিনি দেখেন নি। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন মহলের কাছে ধর্না দিয়েও কোন কাজ করাতে পারেন নি। প্রতিটি কক্ষ থেকে নিয়মিত পলেস্তারা পড়তে থাকে। এছাড়া নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ, নেই কোন টয়লেট, নেই কোন বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। তিনি তার বিদ্যালয়ের ঝুঁকি ও অবহেলার কথা সাংবাদিকদের বলতে বলতে এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রজেশ কুমার হালদার বলেন, গত তিন মাস আগে ক্লাশ চলাকালীন সময়ে ছাদ খসে বড় একটি টুকরা আমার গায়ের কাছে পড়ে। একটুর জন্য মাথায় পড়েনি। এতে তিনি আহত হয়েছেন বলে ও জানান।

এসএসসি পরীক্ষার্থী হাফিজা বলেন, গত রবিবার কমন রুমের দরজার পাশে বসে বই পড়ছিলাম, হঠাৎ একটি দরজা খুলে আমার মাথার উপরে পড়ে। এসময়ে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। পরে শিক্ষক ও সহপাঠিরা মিলে আমার  চিকিৎসার ব্যবস্থা করে সুস্থ করে তোলে।

৭ম শ্রেণীর ছাত্রী মুন্নী আক্তার বলেন, আমাদের কি দেখার কেউ নাই। প্রতিদিনই আমরা জীবনের ঝুকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসি। আবার ফিরে যাবো কিনা বলতে পারিনা। এভাবে আর কত দিন আমরা বিদ্যালয়ে আসবো? আমাদের বাঁচাতে কেউ কি আসবো না!

৯ম শ্রেণীর ছাত্র সিমান্ত সাহা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ছাদের সব জায়গা থেকে পানি পড়ে, আমরা খুব কষ্ট করে ক্লাশ করি। এ সময় পানিতে ভিজে আমাদের বিভিন্ন রোগে ভুগতে হয়।

আর কতদিন এভাবে শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসবে এই প্রশ্ন এখন নাটইখালীবাসীর।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো.কামরুজ্জামান বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসান শওকত বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জেনেছি, যাতে দ্রুত ভবনের সমস্যার সমাধান হয় তার ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial