নাজিরপুরে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে তক্ষক ব্যবসার অভিযোগ
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ৫নং শাখারীকাঠী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. জাকির হাওলাদারের বিরুদ্ধে তক্ষক নামক একটি বন্যপ্রানীকে ঘিরে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারনা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বরিশালের বানারীপাড়া সদর এলাকার বাসিন্দা সোহেল জানান, ঢাকায় বসবাসরত তার এক আত্মীয়কে কোটি টাকা মূল্যের তক্ষক দেয়ার কথা বলে জাকির হাওলাদার তাকে নাজিরপুরের হোগলাবুনিয়া এলাকায় নিয়ে তার সহযোগীদের সহায়তায় মারধর করে তার কাছে থাকা ৩ লাখ টাকা রেখে দেয়। মান সম্মানের কথা চিন্তা করে এ ঘটনায় তিনি কোন আইনী পদক্ষেপ নেননি।
শাখারীকাঠী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো. কামাল শেখ অভিযোগ করে বলেন, শাখারীকাঠী ইউনিয়ন যুবলীগের নেতৃত্ব যে সকল বিতর্কিত ব্যক্তির হাতে রয়েছে তাতে সক্রিয় রাজনীতি করার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেছি। ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাকির হাওলাদার ম্যাগনেট জাকির নামে এলাকায় পরিচিত। এই নামেই সকলে তাকে চেনে। ম্যাগনেট জাকির কেন বলা হয় এমন প্রশ্ন করা হলে কামাল শেখ জানান, তক্ষক নামক একটি প্রানী ক্রয়-বিক্রয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ নিজ এলাকায় এনে তাদের টাকা-পয়সা রেখে মারধর করে বিদায় করে। তার প্রলোভনে পড়ে অনেক মানুষ ইতিমধ্যে সর্বস্বাস্ত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা যুবলীগের এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, যুবলীগ নেতা জাকির কয়েক মাস আগে জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার এক ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শাখারীকাঠীর হোগলাবুনিয়ায় নিয়ে মারধর করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা রেখে দেয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হলে থানা পুলিশ যুবলীগ নেতা জাকিরকে আটক করে। পরবর্তীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সমঝোতায় ওই টাকা ফেরত দিয়ে যুবলীগ নেতা জাকিরকে ছাড়িয়ে নেয়া হয়।
ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা উপজেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক মো. জিয়া হাওলাদার বলেন, যুবলীগের সভাপতি জাকির হাওলাদার তক্ষক নামক একটি প্রানী নিয়ে মানুষের সাথে নানা ভাবে প্রতারনা করে আসছে এমন কথা আমিও মানুষের কাছে শুনে আসছি তবে আমার কাছে এর কোন প্রমান নেই। তাছাড়া কিছু না হলে মানুষ এ কথা বলবেও বা কেন?
শাখারীকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান গাউস বলেন, যুবলীগ সভাপতি জাকির হাওলাদার আমার ইউনিয়ন পরিষদেরও সদস্য। তার মুল ব্যবসাই তক্ষক নিয়ে প্রতারনা। এ ব্যবসা থেকে তাকে ফেরানোর জন্য আমি অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।
অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা জাকির হাওলাদার বলেন, আমার এলাকায় অনেকেই এ ব্যবসায় জড়িত। তবে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। কেউ আমাকে ফাঁসাতে আমার নাম ব্যবহার করতে পারে।
ঘটনার বিষয়ে কথা হলে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এম খোকন কাজী ও সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস বলেন, বিতর্কিত কোন ব্যক্তির স্থান যুবলীগে হবে না। এ সকল অভিযোগের সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
