দলীয় প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হলেই বহিঃষ্কার …. এডভোকেট শ.ম রেজাউল করিম
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেই এবার তাদের বহিঃষ্কার করবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে গ্রীন সিগন্যাল বলে কিছু নেই, এখানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মতামতই চূড়ান্ত। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন সিগন্যাল কাউকেই দল থেকে দেয়া হয়নি। কোন ব্যক্তি যদি গ্রীন সিগন্যাল নিয়ে নিজের মনগড়া কথা বলেন সেখানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ত নয়।
আজ শনিবার দুপুরে পিরোজপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন, বি চৌধুরী, ব্যারিষ্টার মঈনুল. ড. ইউনুস, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যসহ ওয়ান এলিভেনের কুশিলবরা বিএনপির সাথে মিলে জাতীয় ঐক্যের যে ডাক দিয়েছে সে বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ খুব ভালভাবে তাদের কার্যক্রমের দিকে নজর রাখছে। তবে ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের সময় এবং এর আগেও যারা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের উপর যে ধরনের হামলা ও নীল নকশা করেছিল, পেট্রোল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছিল তার পুনরায় ঘটনোর চেষ্টা করলে বাংলাদেশের জনসাধারণকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগ কঠিন হস্তে তা মোকাবেলা করবে।
সাবেক বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনাহর প্রসংঙ্গে আইন সম্পাদক শ.ম রেজাউল করিম বলেন, তার লেখা বইয়ে তিনি যে সকল তথ্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ন বানোয়াট। তিনি নিজেই দূর্নীতিগ্রস্থ আর সে কারনেই অন্য বিচারপতিগণ তার উপর অনস্থা এনেছিলেন। যার জন্য তিনি পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
এসময় সাংবাদিক করা এক প্রশ্নের জবাবে আইন সম্পাদক বলেন, বিএনপি যদি মনে করে তারা জনপ্রিয় তাহলে নির্বাচনে এসে তার প্রমান দিক। নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসুক। তবে ষড়যন্ত্র করে, স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে জ্বালাও পোড়াও এর রাজনীতি করে মানুষ পুড়িয়ে মেরে কাউকে ক্ষমতায় বসতে দেবেনা এ দেশের জনগণ।
পিরোজপুর-১ আসনে তার নিজের প্রার্থীতার বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি বলেন, যদি দলীয় সভানেত্রী চান তাহলে আমি প্রার্থী হবো, আর যদি না চান তাহলে যিনি নৌকা পাবেন আমি তার পক্ষে কাজ করব।
প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি খালিদ আবু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হোসেন, মো. মুনিরুজ্জামান নাসিম, এ কে আজাদ, সাধারণ সম্পাদক ফসিউল ইসলাম বাচ্চু, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. কামরুজ্জামান খান শামীমসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদ বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম শুক্রবার পিরোজপুর-১ আসনের নির্বাচনী এলাকা নাজিরপুর উপজেলার ঘোষকাঠী বাজার, গোবর্দ্ধন বাজার এবং স্বরূপকাঠী উপজেলার বিন্না বাজারে গণ সংযোগ ও পথসভা শেষে ওই দিন বিকেলে স্বরূপকাঠী উপজেলার আদর্শ বয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, শেখ হাসিনা কওমি সনদ প্রদান করায় অনেকে বলেছেন তিনি মৌলিবাদীদের সাথে আপোষ করেছেন, কিন্তুশেখ হাসিনা একজন পরিপূর্ন ইসলামিক মনাব্যক্তিত্ব। শেখ হাসিনা আমাদের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত্ব নেয়ামত। তিনি ক্ষমতায় না থাকলে এদেশ জঙ্গীরাষ্ট্রে পরিনত হবে। তিনি ক্ষমতায় না থাকলে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি কায়েম হবে। তিনি কওমীদের মাষ্টার্সের সমমর্যাদা দিয়েছেন। সরকারী টাকায় ফ্রি হজ্ব পালন, ৬০০ মাদ্রাসা উন্নয়নে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, প্রতি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ, যেখানকার ইমামদের বেতন-ভাতা পর্যন্ত সরকার বহন করবেন।
শ ম রেজাউল করিম আরো বলেন, শেখ হাসিনা বা তার পরিবারের কেউ দুর্নীতবাজ নয়, তাদের টাকা দিয়ে কেনা যাবে না। তাই দুর্নীতিবাজরা টাকা দিয়ে নমিনেশন পাবে না। শেখ হাসিনা এখন অনেক পরিপক্ক নেত্রী, তাই তিনি স্বজন প্রতি বা কোন দুর্নীতিবাজকে আর নমিনেশন দিবেন না। শেখ হাসিনার কাছে সব হিসাব আছে, কোন এমপি কত টাকারা মালিক হয়েছেন।
এ সময় তিনি আরো বলেন, এমপি বা মন্ত্রী না হয়েও আমি জনগনের পাশে ছিলাম এবং আগামীতেও থাকবো। বলদিয়া তথা স্বরূপকাঠীসহ পিরোজপুর-১ আসনের অবহেলিত জনপদকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন করাই আমার মুল লক্ষ্য।
তিনি আরো বলেন, এ এলাকার যে কয়টি রাস্তায় আজ চলেছি, সকল রাস্তাই আমার কাছে মরণ ফাঁদ মনে হয়েছে। অথচ সারাদেশে আজ শেখ হাসিনার কৃপায় উন্নয়নের জয়জয়কার। বলদিয়ার রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল অবকাঠামো চরম অবহেলিত, এগুলো উন্নয়ন করতে আমার কোনো এমপি বা মন্ত্রীর ডিও লেটার বা সুপারিশ লাগবেনা। আমি সরাসরি শেখ হাসিনার কাছে যাবো দলের আইন সম্পাদক হিসেবে।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। মানুষ আজ নেট সুবিধা, টেকনোলজি সুবিধা, বয়স্ক ভাতা, বেকারদের কর্মসংস্থান, বিধবা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, স্বাস্থ্য সুবিধাসহ নানাবিধ সুবিধা পাচ্ছে। এগুলো জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান।
তিনি আরো বলেন, সরকার হিন্দু-বৌদ্ধ-খিষ্টান ঐক্য ট্রাস্ট করেছেন। কাকরাইল মসজিদের জমি, এস্তেমার ময়দানের জমি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জমি, জাতীয় মসজিদ ইত্যাদি আওয়ামী লীগের অবদান। দেশে রিজার্ভ বেড়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জায়গাসহ ফ্রি ঘর দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ব নেতৃত্ব শেখ হাসিনার কাছে জানতে চেয়েছে উন্নয়নের ম্যাজিক কি? শেখ হাসিনা বলেছেন আমার জনগন। ১/১১ তে নেত্রীর আত্মীয়রা বলেছেন তোমার রাজনীতি করার দরকার নাই, নেত্রী বললো আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। আমি আপোষ জানিনা। শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রমান করেছেন তিনি মানবতার মা।
বলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মহব্বত আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীরের পরিচালনায় জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্বরূপকাঠী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ, সাবেক সচিব মো. শামসুল হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য এডভোকেট আহসান তারিক, স্বরূপকাঠী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এসএম ফুয়াদ, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও স্বরূপকাঠী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম মুহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম শিকদার, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য কামরুজ্জামান শামীম, আওয়ামী লীগ নেতা মেহেদী মাসুদ ও বলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম প্রমূখ।
