ইন্দুরকানীতে কার্ড ছাপিয়ে বাল্যবিয়ে
ইন্দুরকানীতে বাল্যবিয়ে মুক্ত উপজেলা ঘোষণার পরও থামছে না বাল্যবিয়ে। একের পর এক বাল্যবিয়ে বেড়েই চলছে। এমনকি প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে কার্ড ছাপিয়ে দাওয়াত দিয়ে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অনুষ্ঠান করে দেয়া হচ্ছে বাল্যবিয়ে। গত শুক্রবার পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের উত্তর কলারণ গ্রামের আব্দুস জব্বার শেখের নবম শ্রেণি পড়–য়া মেয়ে কারিমা আক্তার সাথে পাশর্^বর্তী দক্ষিন কলারণ গ্রামের সোনা আলী হাওলাদারের ছেলে হানিফ হাওলাদারের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। শুধু বিয়ের কার্ড ছাপিয়ে ক্ষ্যান্ত নয়। বিয়ের গেট, প্যান্ডেল করে জাকজমক করে সাজিঁয়ে রাখার পর বরযাত্রী এসে কনেকে নিয়ে যায়। ওই কনে উত্তর-পশ্চিম কলারণ আজাহার আলী দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। জেডিসি সনদ অনুযায়ী ওই ছাত্রীর জন্ম তারিখ ২ মার্চ ২০০৫। বিয়ের দিনে তার বয়স ১৩ বছর ৫ মাস ২৩ দিন। এর আগে এবছরই একই মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্রী শিমু আক্তার (শ্রেণি রোল নং-১), সুখি আক্তার (শ্রেণি রোল নং-২), ফাতিমা আক্তার (শ্রেণি রোল নং-২২), নবম শ্রেণির ছাত্রী মনি আক্তার, কারিমা আক্তার, তন্নি আক্তার বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে।
২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী এ উপজেলাকে বাল্যবিয়ে মুক্ত ঘোষণা করেন তৎকালীন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম শেখ। আর ওইদিনই উত্তর-পশ্চিম কলারণ আজাহার আলী দাখিল মাদ্রাসার নমব শ্রেণির ছাত্রী মনিরা আক্তারের বাল্যবিয়ে হয়। সে বর্তমানে ওই মাদ্রাসায় ১০ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্কুল মাদ্রাসার ছাত্রীরা বাল্য বিবাহের শিকার হচ্ছে। অভিভাবকরা তাদের কন্যা সন্তানদেরকে বিয়ে দেয়ায় নিজেকে দায়মুক্ত মনে করছে। অপরদিকে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়ায় বন্ধ হচ্ছে না বাল্যবিয়ে।
বালিপাড়া ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আমি জন্ম সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই না করে কোন মেয়ের বিবাহ পড়াই না। তবে এলাকার বাইরে গিয়ে তাদের মেয়েদের বিয়ে রেজিষ্ট্রি করাচ্ছেন।
বালিপাড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, এলাকায় দুই একটি বাল্য বিয়ে হতে পারে। এ ব্যাপারে আমি প্রতিবাদ করি। কোন ধরণের সহযোগিতা করি না।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন জানান, বাল্যবিয়ের অভিযোগ পেলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করি। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সহযোগিতা না করলে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব নয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, বাল্যবিয়ে মুক্ত ঘোষণার পরও এ উপজেলায় যারা বাল্যবিয়েতে সহযোগিতা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
