প্রধান সূচি

পাইকগাছা পৌর সদরের প্রধান সড়কের বেহাল দশা

পাইকগাছা পৌর সদরের প্রধান সড়কের জিরো পয়েন্ট থেকে বাজার ডাকবাংলা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। পৌর মেয়র বারবার রাস্তাটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও রাস্তাটি সংস্কার করা হচ্ছে না। রাস্তা সংস্কার না করায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা গেছে, পৌর মেয়র গত ঈদুল ফিতরের আগে রাস্তাটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে রাস্তা সংস্কার হয়নি, পার হয়ে গেছে ঈদুল আযহাও তবুর রাস্তার বেহাল দশা কাটেনি।

জিরো পয়েন্ট থেকে বাজার পোষ্ট অফিস পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তায় শতাধিক ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে খানা-খন্দে পরিণত হয়েছে। যার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। তাছাড়া সামান্য বৃষ্টিতে হচ্ছে জলাবদ্ধতা। বৃষ্টি হলে ভাঙ্গাচুরা রাস্তার বড় গর্তগুলোতে পানি ভরে ছোটছোট ডোবায় পরিণত হয়। চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগীসহ হাজারো মানুষের। এতে পথচারীরা পড়েছে মহাবিপাকে। পানি ভরা গর্তে যানবাহনের চাকায় ছিটকে যাওয়া কর্দমাক্ত নোংরা পানিতে পথচারীরা ভিজে নাকাল হচ্ছেন। মটরসাইকেল চালকরা গর্তে পড়ে ভিজে নাকানী চুবানি খেয়ে উঠছে। তাছাড়া রৌদ্রের সময় রাস্তার উপর জমে থাকা কাঁদা মাটি শুকিয়ে ধুলোবালিতে পরিণত হচ্ছে আর যানবাহন চলার সময় ধুলোয় পুরো রাস্তা ভরে যাচ্ছে। এতে করে পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখিন হচ্ছে।

এছাড়া এই সড়কে যানবাহন চলছে চরম ঝুঁকি নিয়ে। প্রতিদিন পাইকগাছা থেকে ঢাকা ৩০/৩৫টি পরিবহন, ভারী ট্রাক, বাস ও হালকা যানবাহনসহ সহ¯্রাধিক যানবাহন চলাচল করছে।

দক্ষিনাঞ্চলে মৎস্য উৎপাদন ও রপ্তানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাইকগাছা। প্রতিদিন প্রায় অর্ধ শতাধিক মৎস্যবাহী ট্রাক চলাচল করছে। ভাঙ্গাচুরা রাস্তার গর্তে পড়ে ভারী যানবাহন এক্সেল ও পাতি ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ে থাকছে। চিংড়ি পোনা সরবরাহ, কাঁকড়া ও চিংড়ি মাছ রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। তবে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারনে পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

দেশের সার্বিক উন্নয়নের কথা ভেবে উপকূল অঞ্চলের এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি মেরামত করা খুবই জরুরী। এ ব্যাপারে পৌরসভার প্রকৌশলী নূর আহম্মেদ জানান, রাস্তাটির মাপজোপ করা হয়েছে। একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানান, বৃষ্টির জন্য রাস্তায় পিচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এক সপ্তাহ বৃষ্টি না হলে ঠিকাদারের মাধ্যমে খুব তাড়াতাড়ি রাস্তা সংস্কার করা হবে। তবে ঈদুল ফিতরের আগে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য গর্তগুলোতে ইটের খোয়া দিয়ে রোলার দেয়া হয়। তবে গত ৩ মাসের মধ্যে ইটের খোয়া উঠে পূর্বের থেকে আরো খারাপ অবস্থায় পরিণত হয়েছে রাস্তাটি।

পৌর মেয়রের প্রতিশ্রুতি আর বেহাল রাস্তায় জনগণের ভোগান্তি কবে শেষ হবে তার অপেক্ষায় রয়েছে জনগণ।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial