কাল ভোট
অপেক্ষায় বরিশালবাসী : কে হচ্ছেন নগর পিতা
আগামীকাল সোমবার বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বহুল প্রতিক্ষিত ভোট। এ দিন সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ করা হবে। এজন্য ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথবারের মত দলীয় প্রতীকে এবার মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী শনিবার মধ্যরাত থেকে সকল প্রচার-প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে। ভোট ঘিরে নগরীতে নেয়া হয়েছে নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রার্থীরাও তাদের সব প্রচার-প্রচারনা শেষ করে এখন ভোটের প্রহর গুনছেন।
তবে প্রচার প্রচারণা শেষ হলেও মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে চলছে শেষ মুহুর্তের জল্পনা-কল্পনা। হিসাব কষছেন প্রার্থীরাও। কে হচ্ছেন বরিশাল নগরীর নতুন নগর পিতা।
জানা গেছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে চতুর্থবারের মত এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথবারের মত দলীয় প্রতীকে এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বিএনপির ধানের শীষ প্রতিকের মেয়র প্রার্থী এডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতিকের মেয়র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান মাহবুব, জাতীয় পার্টির রাঙ্গল প্রতিকের মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। যদিও দলের নির্দেশনা মেনে নির্বাচন থেকে সাড়ে না আসায় তাকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। বাসদের মেয়র প্রার্থী মনীষা চক্রবতী ও সিপিবির এডভোকেট এ কে আজাদ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জানা গেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার মোট ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৯ জন। এরমধ্যে নতুন ভোটার হয়েছেন ৩০ হাজার ৯০৯ জন।
বরিশাল শহরের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৩৫টি বস্তি রয়েছে। এসব বস্তিতে ভোটার রয়েছেন ৩৩ হাজার। নগরীতে সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ৩১ মার্চ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার ৪২ হাজার ৬২১ ভোট পেয়ে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। তখন তার দল বিএনপি ক্ষমাতায় থাকলেও নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসনে তিনি। পরে ২০০৮ সালে দ্বিতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শওকত হোসেন হিরন ৪৬ হাজার ৭৯৬ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। শওকত হোসেন হিরন মেয়র নির্বাচিত হয়ে বরিশাল সিটির ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
আর ২০১৩ সালে তৃতীয় নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত আহসান হাবিব কামাল ৮৩ হাজার ৭৫১ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।
তবে তার উন্নয়ন কর্মকান্ড কাগজে-কলেমে বলে বিশ্বাস নগরবাসীর। স্বয়ং বিএনপির নেতাদের দাবি সরোয়ারের কাঁধের ওপর ভর করে মেয়র হওয়া কামাল গত ৫ বছরে নগরীতে তেমন উন্নয়ন করতে পারেনি। বরং ওই সময় তার পক্ষে ভোট চাওয়া নিয়ে অস্বস্তিতে ছিলেন সরোয়ারও।
সূত্রে আরো জানা গেছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র (বর্তমানে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী) বিএনপির নেতা এডভোকেট মজিবর রহমান ২৩.২৫% উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হন। সিটির দ্বিতীয় মেয়র আ.লীগ সমর্থীত প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন ৪৩.০১% উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। আর বর্তমান মেয়র বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামাল কাগজে কলমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন ৩৭.৭১%। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েও এই তিন মেয়রের মধ্যে সবচেয়ে কম উন্নয়ন করে বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ার।
আসন্ন নির্বাচনেও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থী হয়ে এবারেও ২৮ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই এবার মেয়র পদে নির্বাচনে পরিবর্তন চান বরিশালবাসী। তবে নির্বাচনে জয়ে আশাবাদি সব প্রার্থীই।
নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, জয়-পরাজয় জনগণের ভোটের উপর নির্ভর করে। তারা যাকে ভোট দিবেন তিনিই নির্বাচিত হবেন। তাই জনগণ আমার পক্ষেই রায় দেবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, নগরীর উন্নয়ন ও চাহিদা পূরণ করে নগরবাসীর সুখ-দুঃখের ভাগিদার হয়ে পাশে থাকাই আমার লক্ষ্য।
তিনি বলেন, শহরের বঞ্চিতদের পাশে থেকে বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরোসন, বিশুদ্ধ পানি সংকোট সমাধান, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সৌন্দর্য বর্ধনসহ নগবাসীর মৌলিক চাহিদা পূরণ করে একটি পরিচ্ছন্ন ডিজিটাল মহানগরী গড়ার আশা রাখছি। তাই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুঁড়ির নামে কোন ইশতেহার আমার নেই। জনগণের আশা-প্রত্যাশাই আমার ইশতেহার। তবে নির্বাচিত হই বা না হই আমি নগরবাসীর পাশে সব সময় আছি, থাকবো। আমার দরজা সবসময় নগরবাসীর জন্য উম্মুক্ত। যে কোন সমস্যায় আসলে আমি কৃতার্থ হবো এবং সাধ্যমত পাশে দাঁড়াবো। আর জীয় হলে সব প্রার্থী ও নগরবাসীকে সাথে নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা রাখছি।
এদিকে জয়ের ব্যাপারে আশার পাশাপাশি শংকার কথা জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী এডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার।
তিনি সাংবাদিকের বলেন, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমাদের জয় নিশ্চিত। তবে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কিনা সেটা নিয়েই আমরা শংকায় আছি। আমাদের প্রচারণায় বাঁধা দেয়া হয়েছে। এজেন্ট ও নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশী ও ভয়ভীত দেখাচ্ছে পুলিশ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গণগ্রেফতার করা হচ্ছে আমাদের নেতা-কর্মীদের। সব মিলিয়ে বরিশালে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরী করতে ইসি ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারপরেও আমরা জনগণের সাড়া পাচ্ছি। তাই জনগণকে পাশে নিয়ে শেষ পর্যন্ত মাটি কামড়ে ভোটের মাঠে থাকার আশা আছে।
এদিকে ভোট নিয়ে শংকার কথা জানালেও নিজ নিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান মাহবুব, জাতীয় পার্টির বহিস্কৃত মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস, বাসদের মেয়র প্রার্থী মনীষা চক্রবতী ও সিপিবির এডভোকেট এ কে আজাদ।
