প্রধান সূচি

ভান্ডারিয়ায় যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামী পক্ষের স্বজনদের হামলায় আহত-৩

জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলায় যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামী পক্ষের স্বজনদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিন জন আহত হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ মামলার এক আসামীর ছেলেকে ‘রাজাকারের পুত’ বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এ ঘটনায় নাজমুন নাহার বেগম (৪২) ও হিরা বেগম (২৬) নামে দুই নারীকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার পশারিবুনিয়া গ্রামে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার পশারীবুনীয়া গ্রামের যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামী নূরুল আমিনের ছেলে স্কুল ছাত্র রিফাতকে তার বাড়ির সামনে বসে একই গ্রামের ইমরান হোসেন নামে এক ব্যক্তি ‘রাজকারের পুত’ বলে গালি দেয়। রিফাত বাড়িতে গিয়ে তার মা নজমুন নাহার বেগমকে এ ঘটনা জানায়। পরে মা নাজমুন নাহার বড় ছেলে মিরাজকে সাথে নিয়ে  যুদ্ধাপরাধ মামলার অপর এক আসামী ফজলুল হকের দুই ছেলে আবদুল আজিজ ও এনামূল কবির,  মৃত রাজা আলীর ছেলে আলতাফ হোসেনসহ ৮/১০ সংঘবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমরান হোসেন হাওলাদার (৩৫) ও তার দুই নিকট আত্মীয় আবদুল গফ্ফার (পুতুল) (২২), ও হাফিজ মীর (৩৫)কে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আব্দুল গাফ্ফারে অবস্থার আরও অবনতি ঘটেলে আংকজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে হামলায় গ্রেফতারকৃত নাজমুন নাহার দাবী করেন, প্রতিপক্ষরা তার ছেলেকে ‘রাজাকার পুত’ বলে গালি দেয় এবং তার বাড়ি ঘরে হামলার চেষ্টা চালালে তাদের ওপর পাল্টা হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ হামলার ঘটনার পর পর স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের অর্ধশত জনতা যুদ্ধাপরাধী মামলার আসামী নূরুল আমিন (পলাতক) ও রাজাকার ফজলুল হক (বর্তমানে জেল হাজতে) এর বসত বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করেছে।

ভান্ডারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম হামলার ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, যুদ্ধাপরাধ মামলার পলাতক আসামী নূরুল আমিনের ছেলে স্কুল ছাত্র রিফাতকে ‘রাজাকারের পুত’ বলায় তার পরিবারের লোকজন পতিপক্ষদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় আহত হাফিজ মীর এর বড় ভাই এস্কান্দার আলী মীর বাদী হয়ে ভান্ডারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial