কাউখালীর সন্ধ্যা ও গাবখান নদীর মোহনায় তীব্র ভাঙ্গন ॥ বন্ধ হয়ে যেতে পারে ফেরি চলাচল
কাউখালীর সন্ধ্যা ও গাবখান নদীর মোহনায় শনিবার দিবাগত গভীর রাত থেকে হঠাৎ করে তীব্র নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়ে পিরোজপুর-স্বরূপকাঠি সড়কের আমড়াজুড়ি-আশোয় ফেরিঘাট এবং দুই পাড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফেরীঘাটের স্বরূপকাঠীর প্রান্তে আশোয়ায় ব্যাপক ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় এ ঘাটে রবিবার সাময়িক পারাপার বিঘিœত হয়। এতে যাত্রী সাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
অপরদিকে ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমড়াজুড়ি ফেরীঘাট সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা আতংকের মধ্যে রয়েছেন। এভাবে ভাঙ্গন চলতে থাকলে পিরোজপুর-স্বরূপকাঠী রুটের গাবখান চ্যানেলের আমড়াজুরী ফেরিঘাট যে কোন মূহুর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
স্বরূপকাঠী প্রান্তের আশোয়ায় শনিবার রাতে ব্যাপক ভাঙনের কবলে পড়ায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের বরিশাল ফেরী বিভাগ রবিবার দুপুর থেকে ক্রেনের সাহায্যে ফেরীর পন্টুন দুটি অন্যত্র স্থানান্তরের কাজ শুরু করেছে। ফলে দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।
আমরাজুড়ি ফেরীঘাটের সুপার ভাইজার মো. শাহ আলম জানান, গত এক যুগ ধরে কাউখালীর সন্ধ্যা ও গাবখান নদীর মোহনায় অব্যহত ভাঙ্গন চলছে। শনিবার রাতে হঠাৎ করে এ এলাকায় তীব্র ভাঙ্গন দেখা দেয়। এতে ফেরীঘাটটি বিলীনের মুখে পড়ে। কর্তৃপক্ষ ফেরীঘাটের পারাপার সচল রাখতে স্বরূপকাঠী প্রান্তের ঘাট স্থানান্তর শুরু করেছে। এনিয়ে গত দুই বছরে ঘাট দুটি অন্তত ২০ দফা স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা ও গাবখান নদীর মোহনায় ভাঙন রোধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েই চলছে।
আমরাজুড়ি ফেরীঘাট বাজারের ব্যবসায়ী জামাল হোসেন জানান, আমড়াজুরি মূলবাজার এখন সন্ধ্যা নদীর মাঝখানে। ইতিমধ্যে আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট, বাজারের অন্তত ২৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কয়েকশত বাড়ি ঘর বিলীন হয়েছে। এর আগে ভাঙ্গনের কবলে আশোয় এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা ও আশোয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া সড়ক ও জনপদের অন্নতত দুই কিলোমিটার রাস্তা নদী গর্ভে চলে গেছে।
আশোয়া গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, প্রতি বছর সন্ধ্যা ও গাবখান নদী ভাঙ্গছে। গত ২০ বছরে সন্ধ্যার করাল গ্রাসে আশোয়ার কয়েক’শ বাড়ি, ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত এক মাসে আমড়াজুড়ি বাজারের ছয়টি দোকান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে নদী ভাঙ্গনরোধে উদ্যোগ না নিলে ঘাট, বাজার ও বাড়ি-ঘর রক্ষা করা যাবে না।
কাউখালীর সমাজসেবক আব্দুল লতিফ খসরু বলেন, সন্ধ্যা নদীর দুই তীরের আমড়াজুড়ি, আশোয়া, কুমিয়ান, গন্দর্ব আমড়াজুড়ি আবাসন, সোনাকুর এলাকার পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে ফেরিঘাট, বাজার ও বাড়ি ঘর। আমড়াজুরি ফেরিঘাট এলাকায় নদী ভাঙ্গনের ফলে গ্যাংওয়ের নিচের মাটি সরে গেছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনগুলো উঠা নামা করছে। আমড়াজুড়ি বাজারের অর্ধশত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ফেরিঘাট মসজিদ ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
আমড়াজুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সামসুদোহা চাঁদ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ভাঙ্গন রোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যুগযুগ ধরে সন্ধ্যা নদীর দুই পাড় ভেঙ্গে চলছে। প্রতিদিন এ জনপদের মাটি, স্থাপনা ও বৃক্ষরাজি সন্ধ্যার করাল গ্রাসে চলে যাচ্ছে। ভাঙ্গন রোধে জরুরী ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
