প্রধান সূচি

কাউখালীতে ফুলের চারার ভাসমান হাট

কাউখালী উপজেলায় সাপ্তাহিক হাটের দিনে বসছে ফুলের চারার ভাসমান হাট। শহরের সন্ধ্যা নদীর কচুয়াকাঠী মোহনায় নৌকায় বসা এ হাটে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকার ফুলের চারা বিক্রয় হয়। এখান হতে ফুল শখের ফুল প্রেমী ও পাইকারী ক্রেতারা ফুলের চারা সংগ্রহ করেন।

স্বরূপকাঠির আকলম গ্রামের ফুল বিক্রেতা মোঃ হান্নান মিয়া (৩০) জানান, স্বরূপকাঠির প্রত্যন্ত এলাকা হতে এ মৌসুমে ফুল সমেত চারা কিনে উপকূলীয় হাট বাজারে খুচরা বিক্রয় করে আসছেন। কাউখালীর সন্ধ্যা নদীর মোহনায় নৌকায় করে এখন সপ্তাহের দুই দিরে হাট বসায় এখন এখানে নিয়মিত আসেন তিনি। তিনি জানান, প্রতি সপ্তাহের দুই হাটে এ ভাসমান বাজারে লক্ষাধিক টাকার ফুল চারা বিক্রয় হয়। প্রতিটি ফুলের চারা ৩০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রয় হয়। প্রতিটি চারা পলিথিন প্যাকেটে প্রক্রিয়াজাত করা। ফলে চারা মাটি ক্ষয় হওয়ার ও সম্ভাবনা থাকে না। ক্রেতা পরে ওই পলিথিন কেটে ফেলে টব অথবা মাটিতে অতি সহজেই রোপন করতে পারে।

ব্যবসায়ী জলিল জানান, নেছারাবাদ উপজেলার অলংকারকাঠী ও সংগীতকাঠীতে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফুলের চারার নার্সারি। সেখান থেকে গাঁদা, গোলাপ, জিনিয়া, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ ২০-২৫ জাতের চারা সংগ্রহ করে সেগুলো বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করেন তিনি। তবে বেশি বেচাকেনা করেন এই ভাসমান হাটে। প্রতি শীতে হাটটিতে চারা বিক্রি হয় কয়েক লাখ টাকার।

অন্য ব্যবসায়ী জানান, গাঁদা ২০-২৫ টাকা, দেশি গোলাপ ও ডালিয়া৫০-৬০ টাকা, চায়না গোলাপ ও চন্দ্রমল্লিকা ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিটি চারায় তাঁরা ৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত লাভ করেন। কাউখালীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংগ্রাহক আবদুল লতিফ খসরু বলেন, পাঁচ-সাত বছর আগে চারা ব্যবসায়ীরা হাটের দিন কিছু কিছু করে ফুলের চারা বিক্রির জন্য নিয়ে আসতেন। চারার চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পরে তাঁরা নৌকা-ট্রলারে করে নদীতে ভাসমান হাট বসিয়ে চারা বিক্রি শুরু করেন। এভাবে ফুলের চারার মৌসুমি বাজার এখন দুই ঋতুতে স্থায়ী বাজারে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফুলের চারার ব্যাপক চাহিদা থাকে। এ সময় শুধু নেছারাবাদ উপজেলার সহ¯্রাধিক চারা ব্যবসায়ী প্রতিদিন লক্ষাধিক ফুলের চারা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ফেরি করে বিক্রি করেন।

অলংকারকাঠী গ্রামের নার্সারি ব্যবসাযী শফিক হাওলাদার বলেন, আমাদের উৎপাদিত চারার বড় বাজার সন্ধ্যা নদীর ভাসমান হাট। সেখানে হাটের দিন পাইকারি ও খুচরা কয়েক হাজার চারা বিক্রি হয়।

এ বিষয়ে জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার কামারকাঠি গ্রামের চাষী মোঃ হাসান বলেন গত চার বছর ধরে কাউখালীতে এ ফুলের চারার হাট বসছে। এ শীত মৌসুমে ফুলের এ ভাসমান বাজার এখন বাণিজ্যিক বাজারে পরিনত হয়েছে।

Please follow and like us:


(পরবর্তি সংবাদ) »



উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial