প্রধান সূচি

রিক্সা চালককে হত্যার দায়ে

ভাণ্ডারিয়ায় একজনের যাবজ্জীবন ও ছেলের পাঁচ বছর কারাদন্ড

ভাণ্ডারিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে মোস্তফা হাওলাদার নামের এক রিক্সা চালককে হত্যার দায়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন এবং তার ছেলেকে পাঁচ বছরের কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

এছাড়া হানিফকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদন্ড এবং তার ছেলে ইব্রাহিমকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমান অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এসএম জিল্লুর রহমান।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী গ্রামের হানিফ হাওলাদার এবং তার ছেলে ইব্রাহিম হাওলাদার। এই মামলার অপর আসামী হানিফের স্ত্রী জাহানুর বেগম রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত থাকলেও আদালত এ মামলা থেকে তাকে অব্যহতি প্রদান করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী গ্রামের মোস্তফার সাথে তার চাচাতো ভাই হানিফের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিল। এ ঘটনায় ২০০৫ সালের ১৭ জুন একটি গাছের ডাল কাটায় বাধা দেওয়ার জেরে হানিফ ও তার পরিবারের লোকজন মোস্তফার স্ত্রী জাহানুর বেগমকে মারধর করে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে ঢাকা থেকে হানিফ ১৯ জুন বাড়িতে এসে তার স্ত্রীকে মারধোর করার বিষয়ে জানতে চাইলে তার চাচাতো ভাই হানিফ ও তার পরিবারের লোকজন পুনরায় তাকেও লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধোর করে। এ সময় মোস্তফা সিকাদার ও এসাহাক মল্লিক নামের দুই প্রতিবেশি মোস্তফাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হানিফ ও তার ছেলে তাদেরকেও পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে।

এ ঘটনায় মোস্তফার স্ত্রী জাহানুর বেগম বাদী হয়ে ওই বছরের ২৪ জুন পাঁচজনের বিরুদ্ধে ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ২৮ জুন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মোস্তফা।

ঘটনায় ২০০৬ সালের ৫ জানুয়ারি ভাণ্ডারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মাকসুদুর রহমান আদালতে হানিফ তার স্ত্রী জাহানুর বেগম এবং ছেলে ইব্রাহিমকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে আদালত ৭ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহন করে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন পিপি খান মোঃ আলাউদ্দিন ও এপিপি মোঃ জহির উদ্দিন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial