প্রধান সূচি

শিশু কল্যান কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়া চলছে ভিন্ন যায়গায়

অর্থাভাবে পরে আছে নির্মানাধীন পিরোজপুর শিশু কল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়টি

প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবে মাত্র সিকিভাগ নির্মানাধীন পিরোজপুরের ৩৭ নং শিশু কল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অযত্ন-অবহেলায় বছরের পর বছর পড়ে থাকায় প্রতিষ্ঠানটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে।

খোজ নিয়ে জানাযায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শিশু কল্যান ট্রাস্ট থেকে ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর ট্রাস্টের নতুন প্লান অনুযায়ী অত্র জেলার পৌর এলাকায় ভবন নির্মান করার জন্য চার লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসন থেকে শিশু কল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে পাঁচ শতক সরকারি জমিও বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়।

সরেজমিনে আরও জানাযায়, শিশু কল্যান ট্রাস্ট থেকে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থে প্রকল্পের মাত্র সিকি ভাগ সম্পন্ন হলেও বাকী ৭৫ ভাগ কাজ এখনও অসমাপ্ত অবস্থায় পরে আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের শুরু থেকে বিভিন্ন উপকরনাদির মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং প্রকল্পের অগ্রগতির কোন তদারকি না হওয়ায় যেনতেনভাবেই ব্যয় করা হয়েছে ওই বরাদ্দ। এদিকে, বিগত জেলা প্রশাসক শামিমুল হক সিদ্দিকী উক্ত বিদ্যালয় ভবনের অসম্পূর্ন কাজ সমাপ্তকরনের লক্ষে অতিরিক্ত আরও ৩৯ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩ টাকার আর্থিক মঞ্জুরী চেয়ে ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পরিচালক শিশু কল্যান ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মিরপুর-২ কে পত্র দেয়ার পর অদ্য পর্যন্ত কোন জবাব পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঃ লতিফ মজুমদার যুগান্তরকে জানান, অন্যান্য এলাকার চেয়ে পিরোজপুর শহরের শিশু কল্যান বিদ্যালয়ের এই শোচনীয় দুরাবস্থা সরেজমিনে দেখতে আসেন শিশু কল্যান ট্রাষ্টের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে এ ব্যাপারে ঢাকায় ফিরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেও সে আশ্বাস থমকে যায়। কিন্তু তৎপরবর্তী প্রায় দু’বছর সময় পেরিয়ে গেলেও এ ব্যপারে শিশু কল্যান ট্রাস্ট থেকে বিদ্যালয়টির ভবন  উন্নয়নের লক্ষে তড়িৎ কোন পদক্ষেপ বা অর্থ ছাড় না দেয়ায় দৃশ্যমান প্রকল্পের কলম, রড ও অন্যান্য উপকরনাদি ঝড়-বন্যা ও বর্ষা-বৃষ্টিতে ভিজে মরিচা পরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শিশু কল্যান প্রাথমিক দ্যিালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লিবার্টি খানম জানিয়েছেন, অত্র বিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত কোন বিদ্যালয় না থাকায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত কিয়ামউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২০০১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত করিমুন্নেসা প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তৎপরবর্তীতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় সেখান থেকে টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থানান্তর হয়ে অস্থায়ী বিদ্যালয় হিসেবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে ওই বিদ্যালয় পাঁচ জন শিক্ষকসহ প্রথম শ্রেনী থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত মোট ১১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এ বিদ্যালয়। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যে ছয়টা পর্যন্ত তিনটি কক্ষের প্রতিটিতে দুটি করে ঠাসাঠাসি করে ক্লাশ চালাতে তারা হিমশীম খাচ্ছেন। এখানে শিক্ষার্থীদের নেই কোন ইউনিফর্ম, নেই কোন খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা।

উল্লেখ্য, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) আহবায়ক এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল তখন। পৌর শহরের সদর উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন (কালিবাড়ি সড়ক) পূর্ব পাশের সরকারি খাস জমিতে অর্থ প্রাপ্তির পর ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বিগত জেলা প্রশাসক একেএম শামিমুল হক ছিদ্দিকী একটি প্রকল্প কমিটি গঠন করেন। তৎপরবর্তী স্থানীয় এলজিইডি থেকে বিদ্যালয়ের একটি প্রাক্কলন প্রস্তুত ও আধা-পাকা ভবন নির্মানের প্লান তৈরী করে কাজ শুরু করে কমিটি। এর আগে ২০১৩ সালের ২০ অক্টোবর প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক অনল চন্দ্র দাস। নির্মানাধীণ শিশু কল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরবর্তী কোন অগ্রগতি পরিলক্ষিত না হওয়ায় বিদ্যালয়ের ভবিষ্যত নিয়ে চরম উদ্বিগ্নের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial