প্রধান সূচি

পানের দাম কমে যাওয়ায় কাউখালীর পান চাষীরা হতাশ

রবিউল হাসান রবিন, কাউখালী :

জেলার মধ্যে কাউখালী পান, সুপারি ব্যবসা ও উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে হাটবাজারগুলোতে পানের দাম পড়ে যাওয়ায় প্রায় দেড় হাজার পান চাষি হতাশ হয়ে পড়েছেন। বৈধ আর অবৈধ পথে ভারত থেকে পান আসায় কাউখালীর পান চাষীরা বিপাকে পড়েছেন। এতে দেশীয় পানের বাজাওে নেমেছে ধ্বস।

উপজেলার পান চাষী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় দেড় হাজার পান চাষী রয়েছে। এসব কৃষক প্রায় ১০০-১৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করছে। পান চাষের সাথে জড়িত উপজেলার কয়েক হাজার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস এই পান চাষ। গত ঘূর্ণিঝড় সিডর ও জলোচ্ছাস আইলায় এবং বর্ষা মৌসুমে ভারী বর্ষনের কারনে পান চাষীদের কয়েক বছর ধরে লোকসান গুনতে হয়েছে।এ উপজেলার পানের স্বাদের বৈশিষ্ট ভিন্ন। পান সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা রয়েছে দেশ জুড়ে। গতবছর পানের ভাল ফলন ও মূল্য আশানুরূপ পাওয়ায় এবার চাষীরা ঝুকে পড়েন পান চাষে। কিন্তু এবার বৈধ আর অবৈধ পথে ভারত থেকে পান আসায় পিরোজপুরের কাউখালীসহ ঝালকাঠী জেলার চাষীরা পানের বরজ নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

একদিকে এক শ্রেনীর কাচাঁমাল ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে পান আমদানী করছেন। অন্যদিকে অবৈধভাবে চোরাই পথে আসছে পান। এসব পান বাজারজাত করায় দিন দিন কমতে শুরু করেছে পানের দাম। খরচ পুশিয়ে নিতে না পেরে বিপাকে পড়েছে পানচাষীরা। অনেকে আবার গুটিয়ে নিয়েছেন পানের বরজ।

চাষিরা বলছেন, দু’মাস আগেও যে পান ১শ’ টাকা বিড়া দরে বিক্রি হয়েছে সে পান বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা দরে। যার ফলে পানের বরজে বিনিয়োগ করা অর্থ কোনোভাবে উঠে আসবে না বলে চাষিদের আশঙ্কা। যার ফলে পানের বরজ করতে বিনিয়োগ করা অর্থ আদায় করা কোনভাবে সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়েছেন পান চাষীরা ।

সম্প্রতি হাট-বাজার ঘুরে পানচাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মওসুমে প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা কোন প্রকার রোগবালাই পানের বরজে আক্রান্ত না করার কারণে বিপুল পরিমাণ পান উৎপাদন হয়েছে।

বিগত বছর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পান বিক্রি করে শত শত পরিবার লাভবান হয়েছে। তাই চলতি বছরের শুরু থেকে পান উৎপাদনে উৎসাহী হয়ে কৃষকরা অধিক পরিমাণে পানের বরজ করেছে। কিন্তু বাম্পার ফলন হলেও দাম পড়ে যাওয়ায় চাষিদের লোকসান গুণতে হবে।

পান চাষে কাউখালী থেকে সপ্তাহে দু’দিন সোম ও শুক্রবার লাখ লাখ টাকার পান দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হয়।বর্তমানে জেলায় কৃষকের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার জন্য সরকার পান চাষীদের জন্য আর্থিকভাবে সহযোগিতা করলে আবারও তারা ঘুরে দাড়াতে পারবে। কাউখালীর ঐতিহ্যবাহী পান প্রতিদিন ঢাকা ও চাঁদপুর কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় অঞ্চলে সরবরাহ হয়। এছাড়া ব্যাগেজ রুলের মাধ্যমে দেশের বাহিরে রপ্তানী করা হয়।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial