গ্রাম্য চিকিৎসক কর্তৃক জরায়ু অপারেশন
স্বরূপকাঠি হাসপাতালে মৃত্যুর মুখে কাতরাচ্ছে হতদরিদ্র ছালেহা খাতুন
স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি :
স্বরূপকাঠিতে নামের আগে ডাক্তার শব্দ ব্যবহার করে হীরা লাল বাড়ৈ নামে এক প্রতারক গ্রাম্য চিকিৎসক কর্তৃক জরায়ু অপারেশন করে সালেহা খাতুন (৬০) নামে এক হতদরিদ্র পড়েছেন জীবন মৃত্যুর শঙ্কায়। গ্রাম্য ওই চিকিৎসকের ভূল চিকিৎসার শিকার হয়ে বর্তমানে উপজেলার হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন অসহায় সালেহা খাতুন। হীরা লালের দ্বারা করা ওই অপারেশনের জায়গা হতে সালেহার গত কয়েকদিন পর্যন্ত অব্যাহত ব্লেডিং হচ্ছে; বলে জানাযায়, হাসপাতাল ও ভূক্তভোগীর পরিবার সূত্রে।
সালেহার পরিবার জানায়, সে উপজেলার উত্তর করফা গ্রামের মোঃ সোহারবের স্ত্রী। দুই সন্তানের অভাব অনটনের পরিবারে সালেহা মাজেসাজে ভিক্ষা করে দিনানিপাত করে। সে বছরখানেক পর্যন্ত veginal prolaps রোগে ভূগছিলেন। একসময় অভাবি সালেহা ওই চিকিৎসকের কাছে তার রোগের কথা বলে পরামর্শ চাইলে লোভী ওই গ্রাম্য চিকিৎক সালেহাকে আশ্বস্ত করে ওখানে অপারেশন করার জন্য। এক পর্যায় গত ১৯ আগস্ট শনিবার প্রতারক হীরা লাল ৯ হাজার টাকার চুক্তিতে রাতে আলকির বাজারে তার চেম্বার পপুলার ফার্মেসীর পিছনে বসে অপারেশন করেন। অপারেশনের একদিন যেতে না যেতেই ওই জায়গা থেকে সালেহার অব্যাহত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পরে তারা পূনরায় হীরা লালের সাথে যোগাযোগ করলে চিকিৎসক অবস্থা বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিক তাকে উপজেলা প্রধান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পরামর্শ দেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। কিন্তু সালেহার পরিবার আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মুচলেকা দিয়ে অত্র হাসপাতাল থেকে যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ তানবীর আহম্মেদ সিকদার বলেন, ওই রোগী veginal prolaps রোগে ভূগছেন। গ্রাম্য ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়ে তিনি এ বিপদে পড়েছেন। তার অপারেশনের জায়গা হতে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তাকে তিন ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা সংকটপূর্ন। আমাদের সাধ্যমত চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।
ঘটনা স্বীকার করে ওই গ্রাম্য চিকিৎক বলেন, আমি সাত হাজার টাকায় অপারেশন করেছি। তাতে আমার অনেক ওষুধপাতি খরচ হয়েছে। আমার কি দোষ। তারা আমার কাছে আসছে কেন?
বর্তমানে সালেহার শারীরিক অবস্থার অবনতি শুনে ওই চিকিৎক এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।
