কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশনের দাতা সদস্য নিয়ে দ্বন্দের জের
মঠবাড়িয়ায় আ’লীগ সাধারণ সম্পাদককে প্রাণ নাশের হুমকীর ঘটনায় থানায় জিডি
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি :
মঠবাড়িয়া উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় কে এম লতীফ ইনস্টিটিউশনের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বরকে প্রাণ নাশের হুমকির ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে থানায় সাধারণ ডায়রী করা হয়েছে। সেলিম মাতুব্বর নিজেই বাদী হয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় এ জিডিটি করেন। ওই জিডিতে আওয়ামীলীগ সমর্থক ও মহিউদ্দিন আহম্মেদ মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ এবং পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্য আজিম-উল-হক, উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও টিকিকাটা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন, অপর সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন খান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শাকিল আহম্মেদ নওরোজ, যুবলীগ নেতা শাহীন শরীফসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৮জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
জিডি সূত্রে জানাযায়, পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী কেএম লতিফ ইনস্টিটিউশন এর দাতা সদস্য হওয়ার মেয়াদ আগামী রোববার (২৭ আগস্ট) শেষ হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌরসভা সম্মুখ সড়কে দাতা সদস্য হতে ইচ্ছুক উল্লেখিত বিবাদীরা সেলিম মাতুব্বরকে পূণঃরায় দাতা সদস্য না হওয়ার জন্য হুমকি দেয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককেও তারা ভয়ভীতি প্রদান করেন। এর জের ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে খুন ও জখমের উদ্দেশ্যে সেলিম মাতুব্বরের নিউমার্কেটে অবস্থিত তার বাস ভবনে বিভিন্ন ভয়ভীতিসহ ওই বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য হলে খুন করার হুমকি দেয়। বিষয়টি তাৎক্ষনিক ওসিকে জানালে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে উল্লেখিত বিবাদীরা পালিয়ে যায়। তিনি জিডিতে আরও উল্লেখ করেন যে, উল্লেখিত ব্যক্তিদের কার্যকলাপ তার বাস ভবনের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা আছে।
এদিকে শুক্রবার বিকেলে আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, দলের সন্ত্রাসীদের ভয়ে তিনি আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, উল্লেখিত বিবাদী যুবলীগ সভাপতি শাকিল আহম্মেদ নওরোজ এর পিস্তল দিয়ে গুলি করে যুবলীগ কর্মী লিটন হত্যার পুলিশে কাছে প্রমান রয়েছে, এছাড়া রিপনের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাংচুরের চার্জশীটসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত বলেও অভিযোগ আনেন। তিনি নিরাপত্তার জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মহিউদ্দিন আহম্মেদ মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ও জেলা পরিষদ সদস্য আজিম-উল-হক তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই রাতে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপনকে নিয়ে মিরুখালী ইউপি চেয়ারম্যান আ. সোবাহান শরীফের বাস ভবনে শালিশ বৈঠক শেষে বাসায় ফিরছিলাম। আমাদেরকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জিডি করা হয়েছে।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম তারিকুল ইসলাম জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাতে খবর পেয়েই সেলিম মাতুব্বরের বাস ভবনে তাৎক্ষনিক পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
