দেড় কোটি টাকার মালামাল আত্মসাত
ভান্ডারিয়া থানায় বিদ্যুত অফিসের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি :
পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ভান্ডারিয়া উপজেলা বিদ্যুৎ উপ-কেন্দ্রের কচা নদীর তীরে পরিত্যক্ত ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের অভিযোগে বরিশাল পিজিসিবির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক।
গত রবিবার ভান্ডারিয়া থানায় দুর্নীতি দমন কমিশন বরিশালের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ মতিউর রহমান বাদি হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং-১৭। ভান্ডারিয়া থানার ওসি মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় আসামিরা হলেন বরিশাল পিজিসিবি এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে খুলনা পাওয়ার হাউসের গ্রিড সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) ও পটুয়াখালী জেলার গলাচিপার ডাকুয়া এলাকার সত্য নারায়ন ভূঁয়ার ছেলে লক্ষী নারায়ণ ভূঁয়া, ভান্ডারিয়ার গ্রিড উপ-কেন্দ্রের অবসরপ্রাপ্ত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও নগরীর কাজিপাড়া এলাকার হাসমত আলী গাজীর ছেলে মোঃ হানিফ হোসেন গাজী এবং খুলনা পিজিসিবি গ্রিড সার্কেলের সাবেক সিকিউরিটি পরিদর্শক (বর্তমানে আফতাব নগরের রামপুরায় ন্যাশনাল লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারে কর্মরত) ও বাগেরহাটের দশানী এলাকার মৃত আঃ রশিদের ছেলে আনোয়ার হোসেন।
দুদক সূত্রে জানাযায়, লক্ষী নারায়ণ ভূঁয়া নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পিজিসিবি, জিএমডি বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে অসৎ উদ্দেশে মোঃ আতাউর রহমান, মেসার্স রহমান এন্টারপ্রাইজ এর নামে দাখিলকৃত দরপত্রে মোঃ আতাউর রহমানের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ও দরপত্রটি রেসপনসিভ দেখিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে গ্রহণ করে। আতাউর রহমান তার প্রতিষ্ঠানের জাল দরপত্রটি গ্রহণ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরিশালের আওয়াতাধীন ভান্ডারিয়া গ্রিড উপকেন্দ্র হতে কচা নদীর পূর্ব পাড়ের পয়েন্ট পর্যন্ত বিদ্যমান ও পরিত্যক্ত ১৩২ কেভি সঞ্চালনের লাইনের মালামাল বিক্রির জন্য প্রতারণামূলক লোক দেখানো কার্যাদেশটি জ্ঞাতসারে প্রকৃত ব্যক্তির হাতে না পৌঁছায়, সে জন্য অফিস সহকারীকে দিয়ে কার্যাদেশটি তার পূর্ব পরিচিত তুহিন নামের এক ব্যক্তিকে প্রদান করেন। তিনি আতাউর রহমানের মেসার্স রহমান এন্টাপ্রাইজের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে দরপত্রে বর্ণিত কাজের উদ্ধারকৃত মালামাল ২০১৫ সালের ৩০ মে স্টোরে জমা নেয়ার মামলামালের গ্রহণ করার বিষয়ে সহকারী ব্যবস্থাপক টেকিনিক্যালকে (হানিফ হোসেন গাজী) মার্ক করে প্রকৃত দরপত্রদাতার কাছ থেকে মালামাল গ্রহণের প্রক্রিয়া দেখিয়ে এজাহারে বর্ণিত এক কোটি ৩৬ লাখ ৬৭ হাজার ৫৪৭ টাকার মালামাল তার অধীনস্থ অপর দুই আসামির সাথে ষড়যন্ত্র করে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আত্মসাৎ করে। এর আগে আতাউর রহমানকে ফাঁসাতে তার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভান্ডারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সে মামলায় অভিযুক্ত আতাউর রহমানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়।
এ কর্মকান্ডের সাথে লক্ষী নারায়ণ ভূঁইয়া, হানিফ হোসেন গাজী ও মোঃ আনোয়ার হোসেন জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান দুদকের উপ- পরিচালক মোঃ মতিউর রহমান।
