প্রধান সূচি

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর উপর হামলা : মারধর

ষ্টাফ রিপোর্টার :

পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নে মারজানা থানম নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী’র উপর হামলা চালিয়েছে দুই বখাটে।

আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে ইউনিয়নের দাউদপুর পল্লীমিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই ছাত্রীর উপর হামলা করে মারধর করে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ইমরান ও হাবিব। এ সময় ছাত্রীটি স্কুল থেকে প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। হামলাকারী বখাটে এমরান মারজানাকে চড়-থাপ্পর ও কিল ঘুষি মারতে থাকে। মেয়েটির সাথে থাকা কয়েকজন বান্ধবী’র সহায়তায় মেয়েটি দৌড়ে নিকটস্থ একটি বাড়িতে ঢুকে প্রাণে বেঁচে যায়। পরে অভিভাবকরা এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়।

এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে হামলার শিকার মেয়েটির খালা রাবেয়া আক্তার বাদী হয়ে এমরান শেখ এবং হাবিবকে আসামী করে পিরোজপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বখাটে ইমরান একই এলাকার হানিফ শেখের ছেলে এবং হাবিব মৃত হালিম শেখের ছেলে। হাবিব সদ্য জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ইমরান ও হাবিব  ইয়াবা ব্যবসা, মাদক সেবন এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে বেড়ানো ছাড়া এদের কোন কাজ নেই। হামলার শিকার মেয়েটি তার নানা বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতো। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে এর আগেও উত্তক্ত করাসহ বেশ কয়েকবার মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে অশোভন আচরণ করেছে ইমরান ও হাবিব। এ নিয়ে এলাকায় শালিশ বৈঠকও হয়েছে। তবে তখন থানায় কোন মামলা হয়নি। এ সুযোগ নিয়েই গত ১ সপ্তাহ ধরে বেশ কয়েকবার মেয়েটিকে উত্তক্ত ও কু প্রস্তাব দেয় ইমরান। রাজী না হলে দেখে নেয়ার হুমকিও দেয়। এমনকি মোবাইল ফেনেও হুমকি দিতে থাকে। এরই জের ধরে সোমবার সকালে পরিকল্পিতভাবে মেয়েটিকে আক্রমণ করে এবং তাকে মারধর করে।

হামলার শিকার মারজানা খানম জানায়, তার মা ঢাকায় চাকুরি করেন। বাবাও কাছে নেই। নানা বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছে। এই সুযোগে বার বার স্কুলে যাওয়ার পথে তাকে নানা ভাবে উত্তক্ত করতো এমরান। এর আগেও লোকজনের সামনে তার শরীরে হাত দিয়েছে। এবার নির্মমভাবে মেরেছে। ওর অত্যাচার সব ধরনের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

মেয়েটির নানি নূরজাহান বেগম বলেন, আমরা সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সদস্য। কোন দিন এত খারাপ অবস্থা দেখিনি। এদের উৎপাতে এলাকার মানুষ এখন অসহায় হয়ে পড়েছে।

দাউদপুর পল্লীমিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমান বলেন, নিজেকে বড় অসহায় লাগছে। এসব বখাটেরদর উৎপাতে মেয়েরা ঠিকমত স্কুলে আসা যাওয়া করতে পারে না। হামলাকারী আসামেিদর গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

কলাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ দিদারুল ইসলাম শিমুল বলেন, এরা এলাকার আপদ। এদের কারনে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তাই এদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুমুর রহমান বলেন, ঘটনা জানার সাথে সাথে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। মেয়েটির খালা রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামী গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Please follow and like us:


« (পূর্ববর্তি সংবাদ)



উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial