মঠবাড়িয়ায় এক বছরে ৪৩ জনের আত্মহত্যা
মঠবাড়িয়া উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। স্কুল পড়–য়া ছেলে-মেয়েদের প্রেম, মান-অভিমান, বাল্য বিয়ে, দাম্পত্য কলহ, পরকীয়া, যৌতুক, দেনা, দারিদ্রতা, বন্ধ্যাতা, ও একাধিক বিয়েসহ নানা কারনে আত্মহত্যার সংখ্যা বেড়েই চলছে।
চলতি বছরে মঠবাড়িয়া থানায় ৪৩টি আত্মহত্যার মামলা দায়ের হলেও প্রকৃতপক্ষে আত্মহত্যায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি। কোন অভিযোগ না থাকায় অনেকেই আত্মহত্যার পর থানা পুলিশের আইনী ঝামেলা এড়াতে পারিবারিক ভাবে দাফন সম্পন্ন করে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের ব্যবসায়ী নিতাই কর্মকার (৫৫) এনজিওর ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে চালের পোকা নিধনের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করে। আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আলম বেপারী একাধিক বিয়ের কারণে দাম্পত্য কলহ এড়াতে কীটনাশক সেবনে আত্মহত্যা করে। স্বামী পরিত্যাক্তা দুই সন্তানের জননী টিয়ারখালীর তোতা মিয়ার কন্যা নাজনীন আক্তার (৪২) মায়ের ওপর অভিমান করে চালের পোকা নিধন ট্যাবলেট সেবনে আত্মহত্যা করে। উত্তর মিঠাখালী গ্রামের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী শারমিন (১৪) পিতার ২য় বিয়ের কারণে লেখাপড়ার খরচ না দেয়ায় বাবার উপর অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। দাউদখালীর কলেজ ছাত্রী রীতা রানী তার প্রেমিকের কাছে বিয়ে না দিয়ে অন্যত্র বিয়ে দেয়ায় অভিমানে আত্মহত্যা করে। জেলে পল্লী খেজুরবাড়ীয়ার রুহুল আমিন এর স্ত্রী কহিনুর বেগম স্বামীর পরকীয়া মানতে না পেরে চালের পোকা নিধন ট্যাবলেট সেবনে আত্মহত্যা করে। খাসতাবক এলাকার স্বামী পরিত্যাক্তা লাভলী (২৫) প্রেমিক আলামিনের বাড়ীতে গিয়ে অভিমান করে চালের পোকা নিধন ট্যাবলেট সেবন, উত্তর মিঠাখালী গ্রামের ছকিনা বাচ্চা না হওয়ায় স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। কাছিছিড়া গ্রামের জামিলা সাংসারিক কলহের কারনে কীটনাশক সেবনে আত্মহত্যা করে। বুখইতলা বান্ধবপাড়া গ্রামের প্রবাসী স্বামীর বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার হিসেব দিতে না পেরে স্ত্রী মাসুমা আক্তার (৪২) পোকা নিধনের ট্যাবলেট সেবনে আত্মহত্যা করে। শহরের হাতেম আলী বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী হাফসা আক্তার (১৪), নবম শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্রী ফজিলা আক্তার (১৬), মহিউদ্দিন আহমেদ মহিলা ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী লিমা আক্তার (২০) প্রেমে ব্যর্থ হয়ে চালের পোকা নিধনের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করে। আমড়াগাছিয়া গ্রামের পনু মৃধা (৭৫) বিষপানে সবুজনগরের মৃত সৈয়দ আলী হাওলাদারের মেয়ে তাজিনুর আক্তার (১৩), চালিতাবুনিয়া গ্রামের আঃ খালেক মিয়ার স্ত্রী কহিনুর বেগম (৪৮) বসত ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।
মঠবাড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: বশির আহমেদ জানান, চালের পোকা নিধন ট্যাবলেট সেবনকারীরা খুব দ্রুতই মারা যায়। এটি একটি গ্যাস জাতীয় কীটনাশক। মানব দেহে ঢোকার ১০/১৫ মিনিটের মধ্যেই এর কার্যকারীতা শুরু হয়। তিনি আরও জানান, আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে অধিকাংশই ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী যুবক যুবতী।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম তারিকুল ইসলাম জানান, মঠবাড়িয়া থানায় আত্মহত্যার সংখ্যা বেশী। ফেসবুক ও মোবাইলে অবাধ কথোপকথন আত্মহত্যার অন্যতম কারন। তিনি আরও জানান, আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের গণসচেতনতা মূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করা উচিৎ।
