প্রধান সূচি

ভান্ডারিয়ায় বিদ্যালয়ে ৭ বছর ধরে আইসিটি ল্যাব বন্ধ

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া রাজপাশা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগে শিক্ষক থাকলেও দীর্ঘ ৭ বছর ধরে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষা বঞ্চিত হয়ে আসছে।
জানা গেছে, আইসিটি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. কেএম জামাল হায়দার ব্যবহারিক ক্লাশ করেন না। তিনি কম্পিউটার শিক্ষক হলেও তার এ বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তিনি ২০১৯ সাল থেকে চোখের দৃষ্টি হারালে ম্যাগনিফাইং গ্লাস ব্যবহার করে কোনোমতে দৃষ্টিশক্তি আছে। তার সুস্থতার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সুস্থ হওয়ার রেজুল্যুশন থাকলেও তিনি আজ পর্যন্ত সুস্থ হতে পারেন নি। তার পরিবর্তে ২০২৪ সালে হৃদয় হাওলাদার নামে আইসিটি বিভাগে একজনকে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনিও কম্পিউটারে দক্ষ নন। সে কারণে তিনি নিজেই বিদ্যালয় থেকে চলে যান। বর্তমানে তার পরিবর্তে সুমনা আক্তার নামে একজনকে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনিও কম্পিউটার বিষয়ে অনভিজ্ঞ। এভাবে চলছে ধাওয়া রাজপাশা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগ। ফলে অচল হয়ে পড়ে আছে বিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগ।
অন্যদিকে, ২০১৯ সাল থেকে সরকারিভাবে পাওয়া আইসিটি ল্যাবের ১৭টি ল্যাপটপ অচল হয়ে পড়ে আছে। কম্পিউটার শিক্ষকের অভাবে সরকারে লাখ লাখ টাকা সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। আইসিটি ল্যাবের ১৭টি ল্যাপটপ ব্যবহার না হওয়ায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে আইসটি ল্যাব শিক্ষার্থীদের কোনে কাজে আসছে না।
বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সালেউর রহমান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে আইসিটি ল্যাবে কোনো শিক্ষক নেই। গত কয়েক বছর ধরে ল্যাবটি তালাবদ্ধ। আমারা ল্যাবের কোনো সুবিধাই পাচ্ছি না। ল্যাবের বেশিরভাগ ল্যাপটপ এখন অচল।
বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হাসান বলেন, বিদ্যালয়ের আইসিটি ল্যাবের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি অসুস্থ হয়ে ২০১৯ সালে দৃষ্টিশক্তি হারান। পরে দুই দফায় খন্ডকালীন দুই প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও তারা অনভিজ্ঞ হওয়ায় ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। এমন অবস্থার কারণে ল্যাবে শিক্ষার পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে ধাওয়া রাজপাশা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান বলেন, আইসিটি ল্যাবের নিয়োগকৃত শিক্ষক ২০১৯ সালে দৃষ্টিশক্তি হারালে ওই বিভাগে সংকট সৃষ্টি হয়। পরে দুজনকে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে অনভিজ্ঞ। এ কারণে সাময়িক আইসিটি ল্যাবের কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওই শিক্ষককে শারীরিক ফিটনেজ সার্টিফিকেট অর্জন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
ভান্ডারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমার কাছে ওই বিদ্যালয়ের অইসিটি বিভাগ বন্ধ- এ ধরনের অভিযোগ কেউ দেয়নি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial