সরকারি নিষেধাজ্ঞার তিন মাস পর উন্মুক্ত সুন্দরবন
দস্যু আতঙ্ক মাথায় নিয়ে বনে ১২ হাজার জেলে ও ৬ শতাধিক পর্যটকের প্রবেশ
দীর্ঘ তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। নিষেধাজ্ঞা উঠতেই বনের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের মাঝে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
বন বিভাগ বলছে, বনজীবীদের জন্য শুধু চাঁদপাই রেঞ্জের ৪টি ষ্টেশনে ৩ হাজার পারমিট দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যেই অনেক জেলে বন বিভাগের পাশ (অনুমতি পত্র) নিয়ে বনের অভ্যন্তরে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে প্রবেশ করেছে। একই সাথে বনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে বড় বড় ৭টি ট্যুরিস্ট বোট বোঝাই দেশ-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবনে প্রবেশ করেছেন। করমজলেও এসেছে প্রায় শতাধিক পর্যটক। পর্যটকদের বরণ করতে বন বিভাগ তাদের আকর্ষণীয় স্পটগুলোকে নতুন রূপে সাজিয়েছে।
তবে দীর্ঘ বিরতির পর জীবিকার তাগিদে বনে ফেরার এই আনন্দের মাঝেও জেলে ও মৎস্যজীবীদের মনে তাড়া করছে চরম দস্যু আতঙ্ক। সম্প্রতি সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে দস্যুদের আনাগোনা ও উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় বনজীবীদের মাঝে আতংঙ্ক বিরাজ করছে। মুক্তিপণ ও জিম্মি হওয়ার দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়েই জেলেরা বনে প্রবেশ করছেন।
অবশ্য বন বিভাগ জানিয়েছে, দস্যু দমনে এবং পর্যটক ও জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ৪টি স্টেশনের পর্যটন স্পটসহ মোট ২৭টি ক্যাম্পকে বিশেষ নিরাপত্তা নজরদারির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, সেখানে র্যাব কোস্ট গার্ডসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন প্রহরী দলও যৌথভাবে তৎপর রয়েছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। বন খোলার এই সময়ে আমরা বনজীবী এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছি। সুন্দরবনে নতুন করে যেকোনো ধরনের দস্যুতা বা অপরাধমূলক কর্মকান্ড দমনে বন বিভাগ অত্যন্ত সোচ্চার এবং কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বনজীবীরা যাতে কোনো প্রকার আতঙ্ক ছাড়াই নির্বিঘ্নে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে পারেন এবং পর্যটকরা যেন নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন, সেজন্য আমরা প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। বনে দস্যুতা ও যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আমাদের নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম বনাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ড, র্যাব, নৌ-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে এবং যৌথভাবে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। বনের অভ্যন্তরে থাকা প্রতিটি ক্যাম্প ও স্টেশনকে ২৪ ঘন্টা সতর্ক অবস্থায় থাকার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সুন্দরবনে ৯টি দস্যু বাহিনীর মধ্যে সুমন ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী আত্নসমর্পন করলেও এখন বড় জাহাঙ্গীর ও করিম শরিফসহ ৭টি দস্যু বাহিনী সুন্দরবন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
