পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকবো, লড়াই চালিয়ে যাবো : নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা যে সরকার পেয়েছি, সেই সরকারকে সকলে মিলে সহযোগিতা করার জন্য আমরা আহবান করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম- আসুন সকলে মিলে এই সরকারকে সহযোগিতা করি এবং দেশটাকে নতুন করে গড়ে তুলি। কিন্ত আমাদের সেই আহবানে সবাই সাড়া দেয়নি, কেউ কেউ শুধু ক্ষমতা চাইছে, কেউ কেউ শুধু দ্রুত নির্বাচন চাইছে। সরকার তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ন মনে হয়নি। কিন্ত আমরা বলেছি সংস্কার লাগবে, আওয়ামী লীগের বিচার লাগবে এবং একটি নতুন সংবিধান লাগবে। সংস্কার, বিচার এবং নতুন সংবিধানের মাধ্যমে আমরা দেশটাকে পূর্নগঠন করবো। দেশের অর্থনীতি, দেশের সংস্কৃতি সবকিছু আমরা নতুন করে সাজাবো। তাই পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো। কোন শক্তি যদি মনে করে তারা ভয় দেখিয়ে, তারা পেশী শক্তি ব্যবহার করে, তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করে চাঁদাবাজ ও লুটতরাজের রাষ্ট্র তৈরী করবে, তা আমরা হতে দেবো না
জুলাই পদযাত্রার ১৩তম দিনে আজ রবিবার পিরোজপুর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বৈরী আবহাওয়া ও প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিঁচে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিঁজে তিনি বক্তব্য রাখেন। এরআগে সকাল ১১টায় শহরের সিও অফিস মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে পদযাত্রার কর্মসূচি বাতিল করা হয়।
সামবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব শেখ আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সচিব ডা. তাসনিম জারা, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আবিদ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সামান্তা শারমিন, যুগ্ম মূখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, ড. মাহমুদা মিতু, এনসিপি পিরোজপুর জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মশিউর রহমান, যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. আল আমীন খানসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবশে এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের রক্তের মধ্য দিয়ে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বেরাচারী ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছিল। যে সরকার ১৬ বছর ধরে জোর করে ক্ষমতায় টিকে ছিল, মানুষের ওপর এমন কোন নির্যাতন নেই যে এই সরকার করেনি। গুম, খুন, নির্যাতন, দুর্নীতি, লুটপাট, ভোটাধিকার হরণ সবকিছু এই গত সরকার করেছে। তিন তিনবার ভোট দিতে পারেনি মানুষ। শুধু সরকার বা রাজনৈতিক দল নয়, মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে পুলিশ, আমলাতন্ত্র এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল বাহিনী। ফলে মানুষ ক্রোধে রাজপথে নেমে এসেছিল, হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়েছিল।
তিনি আরও, গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা বলেছিলাম, দেশের সংস্কার লাগবে, রাষ্ট্রের সংস্কার লাগবে, আমরা পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাই না, আমরা দুর্নীতি ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাই না, আমরা মাফিয়া বন্দোবস্ত ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। আমাদের আন্দোলনের সময় ম্লোগান ছিল বৈষম্য, বৈষম্যবিরোধী সমাজ গড়তে হবে। সমাজে নানা ধরণের বৈষম্য, ধর্মের বৈষম্য, শ্রমিকের সাথে বৈষম্য, গরীবের সাথে বৈষম্য, এই সমস্ত বৈষম্য দূর করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হয়তো আমাদের সাথে অনেক দল-মত ছিল, কিন্তু দেশের সংস্কারের পক্ষে আজকে যদি কেউ না থাকে, আমরা যেহেতেু রাজপথে নেমেছিলাম, আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে যারা রাজপথে নেমেছিলেন, আমাদের আহবানে যারা রাজপথে নেমে শহীদ হয়েছিলেন, আমারা তাদের প্রতি দায়বদ্ধ। আমরা রাজপথ থেকে সড়ে যেতে পারি না। ঝড়-বৃষ্টি যা কিছুই হোক না কেন আমাদের রাজপথে থেকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
পুলিশ প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, পুলিশ-প্রশাসনকে জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। যদি তারা দলবাজ প্রশাসনের মত আচরণ করে, তাহলে মনে রাখবেন ফ্যাসিবাদের সময় যারা দলবাজ হয়েছিল, তাদের যে পরিনতি হয়েছে, আপনাদের পরিনতিও তাদের মতো হবে।
