প্রধান সূচি

নাজিরপুরের কামরুল শেখের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাংগা ইউনিয়নের পুর্ববানিয়ারী গ্রামের মৃত আফজাল শেখের ছেলে মো. কামরুল শেখ (৪৫) এর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে কামরুল শেখ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। কোটি টাকা ব্যয়ে পূর্ব বানিয়ারী গ্রামে নির্মান করেছেন তিনটি আলিশান বহুতল ভবন। নাজিরপুরের দিঘিরজান বাজারে রয়েছে বিশাল মার্কেট। কোটি কোটি টাকা দিয়ে গ্রামে কিনেছেন বিঘায় বিঘায় কৃষি জমি। সিলেটের সুনামগঞ্জের হাওরে রয়েছে তার বিলাসবহুল হাউজবোট। ঢাকার যাত্রাবাড়িতে রয়েছে বিশাল আকৃতির এসএস এর শোরুম। হটাৎ করে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে কামরুল শেখের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে এলাকাবাসীর মনে নানা ধরণের প্রশ্ন জেগেছে।
এলাকাবাসী জানান, ৫/৭ বছর আগেও নিজের ভিটার জমি ছাড়া আর কিছুই ছিলনা কামরুল শেখের। একসময় কামরুল নিজে গ্রামে কৃষানের কাজ করত। দরিদ্র পরিবার থেকে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে কামরুল শেখ হটাৎ করেই শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ায় তাকে নিয়ে এলাকাবাসীর কৌতূহলের শেষ নেই।
এলাকবাসী আরও জানান, মাত্র কয়েক বছর আগে অন্যের বাড়িতে জাইগির থেকে কোন মতে এসএসসি পাশ করা কামরুল শেখ রাজধানী ঢাকায় একটি কোম্পানীতে চাকরি নেয়। পরবর্তীতে কোম্পানীতে বিএ পাশের ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বাগিয়ে নেয় উচ্চ পদ। এছাড়া কামরুল শেখ এলাকায় বিগত দিনে আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাদের টাকা পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কামরুল শেখের চাচা মুক্তিযোদ্ধা আজাহার আলী শেখ বলেন, কামরুল শেখের স্ত্রী রেখা খাতুন অফিস সহকারী হিসাবে চাকরি করেন নাজিরপুরের মাটিভাংগা ডিগ্রি কলেজে। তার স্ত্রী বেতন পায় প্রায় ৩৫/৪০ হাজার টাকা এবং কামরুল শেখ কোম্পানী থেকে বেতন পায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা। তাদের এই ইনকামের টাকা দিয়েই কষ্ট করে কামরুল এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন। এছাড়া কামরুল গত বছর এলাকায় ৫৫ লাখ টাকার জমি ক্রয় করেছে।
দিঘিরজান কলেজ ইয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবং নাজিরপুর থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পিরোজপুরের সাবেক মন্ত্রীর ভাইয়ের অর্থদাতা এই কামরুল। সেই প্রভাবে কামরুল তৎকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের জমি জোরপূর্বক দখল করে দিঘিরজান বাজারের খালের ভিতরে পাইলিং করে দোকানর নির্মান করেছে। ওই সময় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নিলেও রাজনৈতিক প্রভাবে পরে আর প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
মাটিভাংগা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, কামরুল এলাকায় অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার এত সম্পদের উৎস কি আমরা জানিনা। তবে সে দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন। কয়েক বছরের ব্যবধানে কামরুল কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। কামরুলের বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর। তারা এতটাই দরিদ্র ছিল যে অন্যের বাড়িতে জাইগির থেকে তার পড়াশোনা চালাতে হয়েছে। তার স্ত্রী মাটিভাংগা ডিগ্রি কলেজে অফিস সহকারীর চাকরী করেন।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহামুদ আল ফরিদ বলেন, গত ১৬ ডিসেম্বর বানিয়ারীতে একটি ঘরপোড়া মামলায় কামরুল শেখকে আটক করা হয়েছে। তিনি এখন জেল হাজতে রয়েছেন। তার বিষয়ে আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial