উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আলমগীরের বিরুদ্ধে অনৈতিক উপায়ে উপ-পরিচালকের পদে বসার চেষ্টা
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন আকনের বিরুদ্ধে অনৈতিক উপায়ে উপ-পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বের পদে বসার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপ-পরিচালকের পদে বসার জন্য যেসব যোগ্যতা থাকা দরকার তার কোনটাই আলমগীর হোসেন আকনের না থাকা স্বত্বেও তিনি ওই পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
জানা গেছে, পিরোজপুর জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. আলতাফ হোসেনের অবসরজনীত কারণে চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি আগামী ১ জানুয়ারী ২০২৫ তারিখ অবসরে যাবেন। এ অবস্থায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের চাকরির বিধি অনুযায়ী কর্মরত একজন জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা অথবা অধিদপ্তরে কর্মরত একজন প্রোগ্রাম অফিসারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নিয়ম রয়েছে।
এ খবরে মঠবাড়িয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন আকন উপ-পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার জন্য এক প্রকার কূটকৌশল অবলম্বন করে প্রোগ্রামার হিসাবে যাতে উপ-পরিচালকের অতিরিক্ত দয়িত্ব তিনি পেতে পারেন সে উদ্দেশ্যে বর্তমান উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেনের কাছ থেকে জোরপূর্বক আবেদনে সুপারিশ করে নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দপ্তরে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, আলমগীর হোসেন আকন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের চাকরির শুরুতে তৃতীয় শ্রেনীর সেলাই প্রশিক্ষক হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। পরে উপরস্থ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তিনি পদন্নোতি পেয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হয়েছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখা গেছে তিনি বিএ পাস।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের চাকরির বিধি অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেনীর নিয়োগপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা কোনভাবেই উপ-পরিচালকের অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না।
জানা গেছে, পিরোজপুরে আলমগীর হোসেন ছাড়াও যোগ্য এবং জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। যারা সরাসরি পিএসসি (কর্ম কমিশন)মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত আছেন। যারা উপ-পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বের পদ পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।
এছাড়া আলমগীর হোসেন আকনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আলমগীর হোসেন কাউখালি উপজেলায় কর্মরত থাকাকালিন গত ২৮/০৯/২০১৯ তারিখে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘জাল স্বাক্ষরে অর্থ আত্মসাৎ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তাছাড়া মঠবাড়িয়া উপজেলায় গর্ভকালীন ভাতা দেওয়ার জন্য তিনি প্রত্যেক গর্ভবতী মায়েদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আলোমগীর হোসেন আকনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে তার দ্বিতীয় স্ত্রী রুপি খানম পিরোজপুর নারী ও শিশু আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছিলেন। যার মামলা নং ১৩৪/২০, জিআর ৬২/২০২০। সে মামলায় তিনি এক মাস হাজতবাস করেন এবং এই অপরাধে অধিদপ্তর তাকে এক বছরের জন্য সাসপেনশনে রেখেছিলেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন আকন জোরপূর্বক সুপারিশের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, জেলা কার্যালয়ে প্রোগ্রামার পদ শূণ্য থাকায় আমি সে পদে আবেদন করি। উপ-পরিচালক আমার সে আবেদনে সুপারিশ করে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন।
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, আমার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আগামী ১ জানুয়ারী তারিখে আমি আবসর গ্রহন করব। সে অনুযায়ী কর্মরত একজন উপজেলা কর্মকর্তা অথবা প্রোগ্রাম অফিসারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নিয়ম রয়েছে। মঠবাড়িয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন আকন উপ-পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার জন্য তার আবেদনপত্রে আমাকে দিয়ে জোরপূর্বক সুপারিশ করিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি আমি আমার অধিদপ্তরের উপরস্থ কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। বিষয়টি খুবই দু:খজনক। আমি তার কাছ থেকে এমন ব্যবহার আশা করিনি।
