পিরোজপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অফিস ভাংচুর ॥ আহত ৬
পিরোজপুরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ আবারো সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। পুরোনো বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগের এক গ্রুপ হামলা করে পিরোজপুর শহরস্থ সাধনা ব্রিজ সংলগ্ন জেলা ছাত্রলীগে সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ সজলের ব্যক্তিগত অফিস ভাংচুর করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিপক্ষ জেলা ছাত্রলীগ নেতা (দলীয় কোন পদবঞ্চিত) হাফিজুর রহমান জুম্মানের নেতৃত্বে ৮/১০ জনের একটি দল হামলা অফিস ভাংচুর করে। এসময় তারা ইফতেখার মাহমুদ সজলের মোটর সাইকেলসহ ২টি মোটর সাইকেল, অফিসের চেয়ার ভাংচুর করে। হামলায় অফিসে থাকা সজলের অনুসারী ৬ জন ছাত্রলীগ নেতা আহত হয়। আহতরা হলেন- জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. শামীম (২৪), সহ-সভাপতি নাঈম খান (২৪), সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান রাব্বি (২৫), সহ সম্পাদক চন্দন ভীম জয় (২১), সহ সম্পাদক মোহাইমুনুল হক (২০), পৌর ছাত্রলীগের দূযোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক জুবায়ের ইমন (২২)। আহতদের পিরোজপুর জেলা হাসপাতারে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে রাত ৮টার দিকে সাধনা ব্রিজের রাস্তায় ছাত্রলীগ নেতা হাফিজুর রহমান জুম্মান তার অনুসারীদের নিয়ে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সজলের অনুসারী জুবায়ের ইমনকে মারধর করে। এরপর জুম্মানের নেতৃত্বে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সজলের অফিসে হামলা করা হয়।
এদিকে, এ হামলার ঘটনার পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকায় সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মরহুম ফয়সাল মাহাবুব শুভ স্মৃতি সংসদে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ সজলের অনুসারীরা। এ সময় তারা সংসদের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন ছবি ভাংচুর করে।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ সজল জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে হাফিজুর রহমান জুম্মান সন্ত্রাসীদের নিয়ে জেলা ছাত্রলীগ নেতা জুবায়ের ইমনকে মারধর করে। পরে তারা দলবল নিয়ে আমার অফিসে (সজল) হামলা চালিয়ে অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে। এসময় অফিসের সামনে থাকা দুটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে। তাদের সন্ত্রাসী হামলায় জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতিসহ ৬ জন আহত হয়েছে।
তবে তিনি সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মরহুম ফয়সাল মাহাবুব শুভ স্মৃতি সংসদে তার (সজল) অনুসারীদের হামলার বিষয় অস্বীকার করেন।
অফিসে হামলা, ভাংচুর ও ছাত্রলীগ নেতাদের আহত করার ঘটনায় পিরোজপুর সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান সজল। পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে।

হামলার ঘটনার বিষয়ে হাফিজুর রহমান জুম্মান জানান, হামলা ভাংচুরের ঘটনার সাথে তিনি জড়িত নন। বরং শহরের সাধনা ব্রীজের রাস্তায় তার (জুম্মন) এক ছোট ভাইকে সজলের অনুসারীরা মারধর করতে থাকলে সে (জুম্মন) তাদের থামাতে গেলে তাকেও মারধর করে সজলের অনুসারীরা। পরে সজলের অনুসারীরা মরহুম ফয়সাল মাহাবুর শুভ স্মৃতি সংসদে হামলা করে ভাংচুর করে। মারধরে আহত হয়ে তিনি বর্তমানে খুলনাতে চিকিৎসারত আছেন।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন জানান, হামলার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
