প্রধান সূচি

নাজিরপুরে কালীগঙ্গা নদীর ভাঙ্গনে ধসে পড়েছে রাস্তা ॥ ভোগান্তিতে তিন গ্রামের মানুষ

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কালিগঙ্গা নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে। ইতিমধ্যে ভাঙ্গনের মুখে ধসে পড়েছে গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তার একটি অংশ ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ তিন গ্রামের মানুষ।
উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের চলিশা গ্রাম থেকে জীবগ্রামের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা কালীগঙ্গা নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ভিটে-মাটি ও বসতবাড়ি হারিয়ে নি:স্ব হয়েছে নদী তীরবর্তী তিন গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার। এবছর শীত কালের শুরু থেকে নদীর পানি কমতে থাকলে নদী ভাঙ্গনের ভয়াবহতা তীব্র আকার ধারণ করে। এতে করে ইউনিয়নের বাবলা, চলিশা, জীবগ্রাম এ তিন গ্রামে গৃহহীন হচ্ছে শত শত পরিবার। বিলীন হয়ে যাচ্ছে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছর ধরে এ গ্রামে নদী ভাঙ্গন বেড়েই চলছে। তবে গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর ভাঙ্গনের তীব্রতা ব্যাপক আকার ধারণ করছে। ইতিমধ্যে শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের ৩ গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে অনত্র বসবাস করছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে প্রতিদিন বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন গ্রামবাসিরা। এছাড়াও ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছে ৮৭নং চলিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেসরাকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছাড়াও মসজিদ ও মন্দির।
চলিশা গ্রামের ইয়াকুব আলী ফকির (৫০) ও কলেজ শিক্ষার্থী জায়েদা জানান, গত বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে এ এলাকার নদী ভাঙ্গন শুরু হয়। গত দুই মাসে ভাঙ্গনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আবাদী জমি, গাছ-পালা ও বাশঁঝাড়, নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটিও নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের বসতভিটা নদীতে বিলিন হয়ে যাবে।
৮নং শ্রীরামকাঠী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন বেপারী জানান, ইতোমধ্যে ভাঙ্গনে বহু স্থাপনা নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। অনেক পরিবার তাদের বাড়িঘর স্থানান্তর করে অনত্র বসবাস করছে। দ্রুত ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন না করলে মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের অস্থিত্ব। আমার পরিষদের পক্ষ থেকে ভাঙ্গন রোধকল্পে যতটুকু সম্ভব অতি দ্রুত কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবে মাওলা মোহম্মদ মেহেদী হাসান জানান, শ্রীরামকাঠী কালিগঙ্গা নদী ভাঙ্গন রোধসহ জেলার আরো চারটি নদীর ভাঙ্গন রোধে ৬৫৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি পাশ হলে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial