প্রধান সূচি

শুদ্ধাচার চর্চায় এগিয়ে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন

পিরোজপুর জেলা প্রশাসন জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অবলম্বন করে ইতিমধ্যে সফলতা অর্জন করেছে। পিরোজপুর জেলা সদরসহ জেলার ৭ উপজেলায় জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অবলম্বন এবং স্থানীয় জনগণের জন্য সিটিজেন চার্টার সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মূলত: জেলা তথ্য অফিস এ কাজে জেলা প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছে। হাল নাগাদ করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে হাল নাগাদ করা হচ্ছে জেলা প্রশাসনের ওয়েভ সাইডও। এর ফলে জাতীয় শুদ্ধাচার চর্চায় বরিশাল বিভাগে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক পুরষ্কার-২০২১ অর্জন করেছেন সাবেক জেলা প্রশাসক আবু আলী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। তার ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখে সিটিজেন চার্টার হাল নাগাদ করাসহ জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অবলম্বন এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিতের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একজন নাগরিকের পুর্নাঙ্গ নাগরিক সেবার দিকগুলোর সুস্পষ্ট উল্লেখ করে দেয়া আছে সিটিজেন চার্টারে। একজন নাগরিক প্রশাসনের কোন ক্ষেত্র থেকে তথ্য পাবেন, কার সাথে যোগাযোগ করলে তার অভিযোগ, আবেদন সঠিক জায়গায় পৌঁছাবে এবং দ্রুততার সাথে কত সহজে তার অভিযোগ নিষ্পত্তি করা যাবে সে বিষয়ও সঠিক নির্দেশনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরা পারভীন বলেন, এটি সরকারি সেবার মান সম্পর্কে জনগণ ও সেবা প্রদানকারিদের মধ্যে এক ধরণের সমঝোতা স্মারকের মত। এর মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা ও সেবা প্রদানকারিদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটবে। আর এ জন্য নাগরিক সেবার লক্ষে সহয়তা কাউন্টার স্থাপন এবং দ্রুত অভিযোগ নিস্পত্তি জরুরি। আমরা সরকারের সে লক্ষ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।
পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের সিটিজেন চার্টার ধারাবাহিকভাবে নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। দেখা গেছে গত ২৫ মে ২০২২ তারিখ এটির হাল নাগাদ করা হয়েছে। তথ্যমতে, জেলায় কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারিবৃন্দের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ইমেইল আইডি দেয়া রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তথ্য বাতায়ন, ফ্রন্ট ডেস্ক স্থাপনের মাধ্যমে জনগণের অভিযোগ, আবেদন, নিবেদন গুরুত্বের সাথে যাচাই করে নিস্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া জনগণের জন্য সাপ্তিাহিক সেবা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ে জনসচেতনতা সভা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ল্যান্ড সংযোগ স্থাপন, শাখা ভিত্তিক সিটিজেন চার্টার শিক্ষা এবং ভূমি বিষয়ক আলাদা তথ্য ডেক্স স্থাপন করা হয়েছে। এটি শুধু জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ই নয়, পিরোজপুর জেলা ৭টি উপজেলা, ৫২টি ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় এ চর্চা অব্যহত আছে।
জানা গেছে, ভূমি সংক্রান্ত নাগরিকের জন্য যে সকল সেবা রয়েছে তার মধ্যে উত্তরাধীকার, ই মিউটেশন, আইন ও নীতি মালা এবং সচরাচর জিজ্ঞাসার বিষয় সু-নির্দিষ্ট সেবা নাগরিকরা পাচ্ছে। এছাড়াও নাগরিকের তথ্য সেবা, অভিযোগ যাচাই বাছাই ও নিস্পত্তি, শিক্ষ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণী সেবা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা, দর্শনীয় স্থান, পর্যটন সেবা তথ্যাধীকার ব্যবস্থাপনা, কর্ম সম্পাদন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, হেল্প ডেক্স স্থাপন ও ফোনে ডাক্তারি সেবার বিষয়ে নির্দেশনা মনিটরিং এর ব্যবস্থা রয়েছে।
এ ব্যাপারে সেবা গ্রহীতা সেনাবাহিনীতে কর্মরত ওয়ারেন্ট অফিসার মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ভূমি সেবার জন্য পিরোজপুর ভুমি অফিসে গিয়েছিলাম প্রথমদিন নাম জারির জন্য আবেদন করেছি। সঠিক তথ্য পেয়েছি এবং অতি দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে কাজটি সম্পাদন করতে পেরেছি।
সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ হাওলাদার বলেন, প্রত্যেকটি অফিসে বা নাগরিক সেবার স্থানগুলোতে যদি সঠিক শুদ্ধাচার চর্চা হয় তাহলে নাগরিক সেবা সুনিশ্চিৎ হবে। বর্তমান সরকার এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন বলেই আমরা এখন সিটিজেন চার্টার, শুদ্ধাচার শব্দগুলোর সাথে পরিচিত হয়েছি। এটি চর্চা এখন খুবই জরুরি। শুধু যে সরকারের অধিনস্ত কর্মকর্তা কর্মচারি এটা করবে তা নয়। সকল নাগরিকেরই শুদ্ধাচার পন্থা অবলম্বন করা উচিৎ। তাহলে সমাজ থেকে দুর্নীতি, কলহ-বিবাদ, অনিয়ম দূর হবে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, আমি যোগদান করার পর অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারিদের ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নিয়ে নিয়মিত সভার মাধ্যমে প্রত্যেক উপজেলায় নাগরিকের অভিযোগ আবেদনের জন্য আলাদা বক্সের ব্যবস্থা করেছি। অভিযোগ যাচাই বাছাই করে যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায় তার তাগিদ দিয়েছি। সাধারণ জনগণের মৌলিক সেবা নিশ্চিতভাবে দেয়া আমাদের দায়িত্ব। নিরলসভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি এ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial