একই খেয়া ঘাটে দুই রকমের ভাড়া ! যাত্রীরা জিম্মি
এক খেয়ায় পার হলে যাত্রী প্রতি ১০ টাকা আর মোটর সাইকেল প্রতি ৫০ টাকা। একই ঘাটের আবার আরেকটি খেয়ায় পাড় হতে যাত্রী প্রতি ১৫ টাকা এবং মোটর সাইকেল প্রতি ৭০/৮০ টাকা দিতে হয়। অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি দুই খেয়ায় দিতে হয় দুই রকমের ভাড়া। মাত্র ২৫০ মিটার দীর্ঘ নদী পারাপারে যাত্রীদের এ ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তবে এ অনিয়ম বন্ধে নেয়া হচ্ছে না কোন পদক্ষেপ। খেয়া পারাপারের যাত্রীদের জিন্মি করে এভাবে দুই রকমের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী-চাঁদকাঠী খেয়াঘাটে।
জানা গেছে, নিয়ম অনুসারে ইজারাদার নিজের খেয়ায় করে যাত্রীদের পরিবহন করবেন। এছাড়া পরিবহনের জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে যে পরিমান ভাড়া নেওয়া হবে এজন্য ঘাটের দুই পাশে চার্ট টাঙিয়ে প্রদর্শন করতে হবে। তবে এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করেই চলছে পিরোজপুরের কালিগঙ্গা নদীর কলাখালী-চাঁদকাঠী রুটের খেয়া। কালিগঙ্গা নদীর পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রান্তের কলাখালী এবং নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার চাঁদকাঠী প্রান্ত থেকে নদী পারাপারের জন্য এক খেয়ায় (ইঞ্জিন চালিত নৌকা) যে ভাড়া নেওয়া হয়, অন্য খেয়ায় নেওয়া হয় তার দ্বিগুন ভাড়া। নেছারাবাদ উপজেলার চারদিকে নদী বেষ্টিত কমপক্ষে ৫টি ইউনিয়ন এবং কাউখালী উপজেলার ২টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ জেলা শহরে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন এ খেয়াঘাটটি ব্যবহার করে।
খেয়া ব্যবহারকারী যাত্রীরা জানান, বর্তমানে কালিগঙ্গা নদী পার হতে সরাসরি ইজারাদার পরিচালিত খেয়ায় যাত্রী প্রতি ১০ টাকা এবং মোটর সাইকেল পরিবহনে ৫০ টাকা দিতে হয় খেয়া ব্যবহারকারীদের। তবে সেখানে থাকা ‘প্রাইভেট’ নাম দিয়ে চালু রাখা হয়েছে আরেকটি খেয়া, যেখানে প্রতি যাত্রীকে ১৫ টাকা এবং মোটর সাইকেল পরিবহনে ৭০/৮০ টাকা দিতে হয়। আর রাত হলে তো কথাই নেই। এছাড়া নিয়মিত চলাচলকারী খেয়াটি ঘাটে বেধে রেখে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার খেয়াটি বেশি চালানো হয়। ঘাটের ইজারাদাররা অতিরিক্ত টাকা উপার্জনের জন্য এ পদ্ধতি চালু করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এজন্য ঘাট ব্যবহারকারীদের গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা। তবে মাসের পর মাস ধরে এ অনিয়ম চললেও তা বন্ধের জন্য নেওয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। আর এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে যাত্রীদের মাঝে।
খেয়া পারাপারের নৌকার মাঝি মোখলেছ সেখ বলেন, “আমি ডেইলি লেবার হিসেবে কাজ করি। ইজারাদার যেভাবে নিতে বলছে সেভাবে টাকা নিচ্ছি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না”।
খেয়াঘাটের ইজারাদার বাদশা সরদার জানান, ইজারার খেয়ায় কোর বেশী টাকা নেওয়া হয় না। তবে আমার ইজারার অংশিদাররা একটি খেয়া নৌকা চালু করে যাত্রীদের কাছ থেকে কিছু অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পিরোজপুরের কলাখালী গ্রামের বাদশা হাওলাদারসহ কলাখালী ইউনিয়নের ও নেছারাবাদ উপজেলার ৫/৬ ব্যক্তি যৌথভাবে খেয়াঘাটটি ইজারা নিয়ে পরিচালনা করছেন।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বশির আহমেদ বলেন, কলাখালী খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার জন্য মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ইজারাদারকে জরিমানা করা হয়েছিল। আবারও তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।
