প্রধান সূচি

আজ বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী

আজ ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। আজ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্য-বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন। আজ বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার চিরস্মরণীয় দিন।
বিজয়ের ৫০ বছর পূর্ণ হলো আজ। দিনের নতুন প্রভাতে আজ তাই গোটা জাতি উৎসব-আনন্দে মেতে উঠেছে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রামের পরিপূর্ণতায় ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের আজকের দিন দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যালোকে উদ্ভাসিত হয়েছিল পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর আগে এ বছরের ২৬ মার্চ জাতি পালন করেছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। সেই সঙ্গে পালিত হচ্ছে বাঙালির স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’, যার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তিও ঘটছে আজকের ঐতিহাসিক দিনটিতেই। বছরব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ নির্ধারিত থাকলেও বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করা না যাওয়ায় মুজিববর্ষের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুনর্র্নিধারণ করে সরকার।
বাঙালির মহান স্বাধীনতা ও বিজয় অর্জনের ৫০ বছর পার হলেও আজও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ শক্তি সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীর আস্ম্ফালন থেকে জাতি পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। মাত্র গত অক্টোবরে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজামণ্ডপ ও মন্দির-বাড়িঘরে এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তির আরেক দফা ভয়াবহ তাণ্ডব দেখতে হয়েছে দেশবাসীকে। এর আগে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা ও পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তনের আন্দোলনের নামে সাম্প্রদায়িক নৈরাজ্যের কবলে পড়তে হয়েছিল দেশকে। আবারও এই অপশক্তির সহিংসতা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও জাতিকে ভাবিয়ে তুলছে।
এমন প্রেক্ষাপটে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তির দিনটিকে ঘিরে একদিকে আনন্দে ভাসবে দেশ, আরেকদিকে স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীর নানা অপতৎপরতা রুখে দাঁড়ানোর যূথবদ্ধ শপথে বলীয়ান হবে মানুষ। ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনায় দেশকে উদ্ভাসিত করার দৃঢ় আহ্বানও উচ্চারিত হবে কোটি কণ্ঠে।
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী এবং মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তারা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন অগণিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের আত্মত্যাগের কথা, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছিল।

বিজয় দিবসে পিরোজপুরের কর্মসূচি :
বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে পিরোজপুরে ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বলেশ্বর ঘাট শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের অনুষ্ঠানমালার সূচনা করা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারী, আধা সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে বলেশ্বর ঘাট শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।
সকাল ৯টায় জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় উত্তোলন এবং পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, স্কাউটস, গালর্স গাইড, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিশু কিশোর ও যুব সংগঠনের কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টায় জেরা প্রশাসকের কার্যালয়ে এবং পিরোজপুর পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
জোহর নামাজবাদ মসজিদসমূহে বিশেষ মোনাজাত, দুপুরে জেলা কারাগার, হাসপাতাল এবং শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।
বিকেল ৩টায় জেলা স্টেডিয়ামে নতুন প্রজন্মসহ সকলকে বন্ধুবন্ধু’র আদর্শের শিক্ষায় আলোকিত এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হবে শপথ গ্রহণ ( প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে)।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় টাউন ক্লাবে মাঠের স্বাধীনতা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা।
এছাড়া, বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারী কর্মসূচির সাথে সমন্বয় করে নানা কর্মসূচি পালন করবে।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রবিবার সন্ধ্যায় শহরের সরকারী ও গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলোতে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে এ বছর মহান বিজয় দিবসে জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলায় ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ভান্ডারিয়া উপজেলা প্রশাসন। ভান্ডারিয়া উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি থাকবেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
দিবসটি পালনে ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজুল ইসলাম মিরাজ উদ্যোগে বিভিন্ন ব্যতিক্রমী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থানে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial