পিরোজপুরে ১১৫ কোটি টাকার এলজিইডি’র একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ কাজ মাঝ পথে বাতিল
পিরোজপুরে সড়ক যোগাযোগ সেক্টরে ১১৫ কোটি টাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুর নির্মাণের কার্যাদেশ মাঝ পথে এলজিইডি বাতিল করে দিয়েছে। এক সপ্তাহ আগে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এলজিইডি’র পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী এ প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ বাতিলের আদেশ দেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সত্তার জানান, ২০১৮ সালের প্রথমার্ধে আরম্ভ হয়ে ২০২০ সালের শেষে সেতুটির নির্মাণ সম্পন্নের মেয়াদ থাকলেও প্রায় দু’বছর ধরে নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল। এই কাজের স্থবিরতা নিয়ে এলজিইডি চরম বিপাকে পড়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিপত্র বাতিল করার আগে এ নির্মাণ কাজ শেষ করতে ১০ বার লিখিত ও ৫ বার মৌখিক তাগিদ দেয় হয়। অবশেষে গত ৯ সেপ্টেম্বর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে কার্যাদেশ বাতিলের পত্র দেয়া হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে এ বাতিলকৃত কাজের নাম হচ্ছে ‘পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলাধীন জগন্নাথকাঠী-চাঁদকাঠী রাস্তায় কালীগঙ্গা নদীর উপর ৬০০ মিটার দীর্ঘ পি,সি, গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ’। নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে দেশের খ্যাতনামা নির্মাণ সংস্থা ‘নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। ১’শ ১৫ কোটি ৪ লাখ ২ হাজার ৫৪০ টাকা চুক্তিমূল্যের কার্যাদেশে এ কাজ শুরুর তারিখ ছিলো ২০১৮ সালের ৬ মে। কাজ শেষের মেয়াদ ছিলো ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর। কাজ সম্পন্ন করার মেয়াদ আড়াই বছর হলে তা অতিক্রম করার আরও প্রায় ১১ মাস পরেও সেতু নির্মাণ ক্ষেত্রে উল্লেখ করার মত কোন অগ্রগতি ছিলো না। গার্ডার ব্রীজ নির্মাণে নদীর দুই তীরে কিছু পাইল বসানো ছাড়া আর কোন কাজ গত চার বছরে সম্পন্ন হয়নি বলে নির্মাণস্থলে সরেজমিনে দেখা গেছে। পিরোজপুর জেলা শহরের সাথে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা স্বরূপকাঠির (নেছারাবাদ) বাসিন্দাদের যাতায়াত সুগম্য করতে ২০১৬- ২০১৭ সালে এ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সদর উপজেলার কলাখালী ও নেছারাবাদের চাঁদকাঠি খেয়াঘাট লাগোয়া কালিগঙ্গা নদীর উপর সেতু নির্মাণের স্থান নির্বাচন করে এলজিইডি দরপত্র আহবান করে। দেশের শীর্ষ স্থানীয় কনস্ট্রাকশন কোম্পানী ‘নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’ কার্যাদেশ পেয়ে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করায় মানুষের মাঝে ব্যাপক আস্থা ও আশার সৃষ্টি হয়। কিন্তু এক পর্যায় কাজে ধীরগতি ও স্থবিরতা দেখা দিলে প্রকল্পটি নিয়ে মানুষের মাঝে উদ্ভব হয় নানা প্রশ্নের। অবশেষে এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির নির্মাণ কাজ বাতিল করলো এলজিইডি।
এ ব্যাপারে ‘নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডে’র সিনিয়র ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ বুলবুল বলেন, কার্যাদেশ বাতিলের চিঠি তাদের কোম্পানী পেয়েছে। কোম্পানীর ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সত্তার জানান, পিপিআর (পাবলিক প্রক্রিইউমেন্ট রুলস) অনুযায়ী এ নির্মাণ প্রকল্পের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যৌথ পরিমাপ করে সাবেক ঠিকাদারদের দেনা-পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করা হবে। এরপর নতুন দরপত্র আহ্বান করে উক্ত সেতু নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু হবে বলে তিনি জানান।
