প্রধান সূচি

দুদকের মামলায় পিরোজপুর পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক ও তার স্ত্রী নিলা রহমানের জামিন

পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান মালেক এবং তার স্ত্রী নিলা রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর দায়ের করা দুটি মামলায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেছেন পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ।
আজ সোমবার পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ মোহা. মুহিদুজ্জামান এর আদালতে মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক ও তার স্ত্রী নিলা রহমান হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত শুনানী শেষে দুদকের অভিযোগপত্র প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত তাদের জামিন প্রদান করেন। এর আগে গত ২৮ মার্চ দুই মামলায় পৌর মেয়র দম্পতি উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন নেন।
মামলার আসামী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন জানান, পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক ও তার স্ত্রী নিলা রহমানসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এক মামলায় মেয়র ও তার স্ত্রী এবং অন্যটিতে মেয়রসহ পৌরসভার ২৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযুক্ত করা হয়। উক্ত মামলায় পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত মেয়র দম্পতির জামিন মঞ্জুর করেছেন এবং আগামী ২০ অক্টোবর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন।
দুদকের আইনজীবী মো. মুনসুর অদ্দিন হাওলাদার জানান, মামলায় আসামীদ্বয় হাইকোর্ট থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। সোমবার পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার জামিন শুনানীর দিন ধার্য ছিল। আদালত শুনানী শেষে দুদকের অভিযোগপত্র দাখিল পর্যন্ত আসামীদের জামিন মঞ্জুর করেছেন।


উল্লেখ্য, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩৬ কোটি ৩৪ লাখ ৭ হাজার ৯৩২ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র মো. হাবিবুর রহমান মালেক ও তার স্ত্রী নীলা রহমানকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে দুদক। পৃথক অপর আরেকটি মামলা করা হয় ঘুষ নিয়ে পৌরসভায় ২৫ জন জনবল নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে। এ মামলায় পৌর মেয়র মালেক ও কাউন্সিলর আব্দুস সালাম বাতেনসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত বছরের ১৮ মার্চ দুদকের সমন্বিত বরিশাল জেলা কার্যালয়ে উক্ত মামলা দুটি দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক আলী আকবর।
পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তার বড় ভাই একেএমএ আউয়াল পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। সরকারি জমি দখলের অভিযোগে আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা আউয়ালের বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। উক্ত মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুদক। সে সব মামলায় তারা জামিনে রয়েছেন।
দুদকের উপপরিচালক আলী আকবর জানান, সম্পদের বিবরণী চেয়ে পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র মো. হাবিবুর রহমান মালেক, স্ত্রী নীলা রহমান, মেয়ে নওরীন আক্তার ও ছেলে ফয়সাল রহমানের নাম উল্লেখ করে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দুদক থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পৌরসভার ২৫ জন কর্মচারী নিয়োগে প্রতিজনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ গ্রহণ, বাস ও মিনিবাস থেকে অবৈধ চাঁদা আদায়, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঠিকাদারি করার অভিযোগ এনেও একই সময়ে নোটিশ দেওয়া হয় পৌর মেয়রকে। নোটিশের যথাযথ উত্তর না পাওয়ায় পরে কমিশন তাকে (উপপরিচালক আলী আকবর) এ বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য দায়িত্ব দেয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পৃথক মামলা দুটি দায়ের করা হয়।


পৌরসভায় ২৫ কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় পৌর মেয়রসহ অভিযুক্ত অন্যরা হলেন- স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক (সাবেক) তরফদার সোহেল রহমান, পৌরসভার কাউন্সিলর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম বাতেন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হানিফ, পৌরসভার সচিব (অন্যত্র বদলি) মাসুদ আলম, ক্যাশিয়ার (প্রমোশন হিসাবরক্ষক) মাইনুল ইসলাম, সহকারী কর আদায়কারী (প্রমোশন স্টোর কিপার) মাহাবুবুর রহমান, নিম্নমান সহকারী শারাফাতুন মান্নান, সহকারী কর নির্ধারক ওয়াদুদ খান, সহকারী কর নির্ধারক মিজানুর রহমান, টিকাদানকারী ফরহাদ হোসেন মল্লিক, সহকারী কর আদায়কারী মেহেদি হাসান চপল, সহকারী কর আদায়কারী রাশিদা বেগম, বাজার আদায়কারী রাজু আহমেদ, বাতি পরিদর্শক রবিউল আলম, অফিস সহকারী মাকসুদা খানম, ফটোকপি অপারেটর আনোয়ার হোসেন, টিকাদনকারী জামিউল হক, টিকাদানকারী লাইজু আক্তার, টিকাদানকারী রেপোনা মজুমদার, টিকাদানকারী জান্নাতুল ফেরদৌসী, নৈশপ্রহরী ফজলুল হক, নৈশপ্রহরী নজরুল ইসলাম, পিয়ন খাদিজা বেগম, পিয়ন দীপক কুমার পাল, সহকারী কর আদায়কারী মিজানুর রহমান মিন্টু এবং প্রহরী রনজিত।

এদিকে, জামিন শুনানীকে কেন্দ্র করে পিরোজপুর শহরে সকাল থেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। শহরের সিও অফিস মোড়, সার্কিট হাউজ এলাকা, পৌরসভা ভবন এলাকা, পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড এলাকা, আলামকাঠী বাইপাস এলাকা, রানিপুর এলাকায় মেয়র সমর্থক এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীঢগের একটি অংশ অবস্থায় নেয়।
এদিকে, আইন শৃংখলা রক্ষায যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ছিল সতর্ক অবস্থানে। আদালত এলাকা, সিও অফিস মোড়, পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড মোড়, রানিপুরসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়া র‌্যাবের কয়েকটি দল বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েনসহ টহল অবস্থায় ছিল।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial