নাজিরপুরে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূকে নির্যাতন
পিরোজপুরের নাজিরপুরে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ভাসুর ও ননদের বিরুদ্ধে।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর বাবা মো. আবুল বাসারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত স্বামী আমিনুল ইসলাম (২৯) বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। উপজেলার শাখারীকাঠী ইউনিয়নের মাদুলিহারা গ্রামে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই গৃহবধূ আমিনুল ইসলামের স্ত্রী নাজমুন নাহার রুবী (২৬)। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবি, স্ত্রী কালো, বার বার মেয়ে সন্তান হয়েছে, ছেলে সন্তান কেনো হয়না ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে স্ত্রীকে নানানভাবে নির্যাতন করতো আমিনুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন। বিশেষ করে গত কিছুদিন থেকে আমিনুল ও তার বাবা-মা, ভাসুর-ননদরা মিলে ওই গৃহবধূকে নির্যাতন করতো। এরকম ঘটনা এর আগেও ঘটানো হয়েছিল। যা স্থানীয়ভাবে সালিশি করে মীমাংসা করা হয়।
ওই গৃহবধূ জানান, ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক ও ছেলে সন্তানের দাবীতে এবং আমি কেনো কালো এসব কারণ দেখিয়ে আমিনুল ইসলাম আমার পায়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে এবং পিঠ, পশ্চাদ্দেশ ও দুই উরুতে মারধর করে কালসিটে দাগ ফেলেছে। আমার পুরো শরীরজুড়েই এমন ক্ষতচিহ্ন ও মারধরের আঘাত রয়েছে। কয়েকবার দফায় দফায় তাকে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা যৌতুক দেয়া হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন ধরে আমাকে বাবার কাছ থেকে আরো ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে। আমার বাবা একজন সামান্য স্কুল শিক্ষক। সে এতো টাকা কোথা থেকে দিবে ! আমি যৌতুক এনে দিতে রাজি না হওয়ায় আমার উপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। শুক্রবার আমাকে সকলে মিলে হত্যা করতে চেয়েছিল। আমাকে দা’ দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। তারা আমাকে শুধু নির্যাতন করেই ক্ষ্যান্ত হননি, তারা আমাকে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে, আমাকে বলে যদি থানা পুলিশ করার চেষ্টা করি তাহলে উক্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার দেয়ার হুমকি দেয়।
গৃহবধূর বাবা মো. আবুল বাসার বলেন, বিগত দিনে আমি আমার মেয়ে জামাইকে কয়েক দফায় প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা যৌতুক দিয়েছি। ভেবেছিলাম মেয়েটা সুখে থাকবে, কিন্তু দিন দিন মেয়ে জামাইয়ের লোভ বৃদ্ধি পায় যার ফলে কিছুদিন আগে ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। যা আমার মেয়ে প্রত্যাখ্যান করে। তারপর থেকে তার উপর শুরু হয় পাশবিক নির্যাতন।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, মেয়ের বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
