মোংলা ও সুন্দরবন উপকূলের নদ নদীতে ইলিশের আকাল
মোংলা ও সুন্দরবন উপকূলের নদ-নদী এবং ইলিশের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত বঙ্গোপসাগরে দেখা মিলছে না ইলিশের। ভরা মৌসুমে ইলিশ না পেয়ে খালি ফিশিং ট্রলার নিয়ে ফিরে আসছেন মোংলা ও সুন্দরবন এলাকার জেলেরা। ইলিশ মৌসুমের পাঁচ মাস পার হলেও এ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখেনি কোনো জেলে-মহাজন।
সাধারণত জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস জেলেদের কাঙ্খিত সময়। বর্ষার এই তিন মাসের দিকে তাকিয়ে জেলেরা সারাবছর প্রহর গুনে। প্রতিবছর এ সময় নদী ও সমুদ্রে প্রচুর ইলিশের দেখা মেলে। আর এই ইলিশ বিক্রির অর্থ দিয়েই চলে জেলেদের সারা বছরের সংসার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভরা মৌসুমেও মোংলা ও সুন্দরবন এলাকায় রূপালী ইলিশের বড় আকাল চলছে। জেলেরা জীবন বাজি রেখে ইলিশের প্রধান উৎস বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে পর্যাপ্ত ইলিশ পাচ্ছে না। আর কখনো কখনো অল্প কয়েকটি ইলিশ ধরা পড়লেও এক সাথে সাগরে যাওয়া একদল জেলেরা ভাগে পাচ্ছে সামান্য কয়েকটি মাছ। আর দিনের পর দিন এ অবস্থা চলতে থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মোংলা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে। ভরা মৌসুমেও এ হাহাকার বিপদে ফেলেছে জেলেদের। ঋণ করে ইলিশ শিকার ও ব্যবসায় যারা নেমেছেন, তাদের দিন দিন সুদ বাড়ছে। বাকিতে রসদ কিনে সময়মতো শোধ করতে না পেরে দেনায় ডুবছেন জেলেরা।
মোংলা উপজেলার চিলা ও জয়মনির ইলিশ ঘাটে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চলতি মৌসুমে ইলিশ শিকারের আশায় জাল, নৌকা ও ট্রলার নিয়ে দল বেঁধে নদীতে ছুঁটছেন জেলেরা। ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত নদী চষে বেড়ালেও তাদের জালে মিলছেনা কাক্সিক্ষত ইলিশ।
জেলে রশিদ হাওলাদার, জাহিদ ব্যাপারী ও জাফর হাওলাদার বলেন, “ইলিশের ভরা মৌসুমে প্রতিদিন আমরা ৪/৫ জন নদীতে যাই। গড়ে তিন চারটা ইলিশ পাই। যার মূল্য এক হাজার টাকার বেশি না কিন্তু ট্রলার ও তেলের খরচের পর তিন-চারশ’ টাকা। যা দিয়ে পরিবারের বাজারই হয় না। আমাদের একমাত্র পেশা ইলিশ ধরে বিক্রি করা।” তারা আরো জানান, এই ভরা মৌসুমে মাছ ধরেই আমরা সারাবছর আয় রোজগার করি। তাই এনজিও থেকে ঋন নিয়ে নৌকা ও জাল কিনে নদীতে নেমেছি। কিন্তু সারাদিন জাল ফেলেও মাছ না পাওয়ায় হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
মোংলা উপজেলা জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি বিদুৎ মন্ডল বলেন, লকডাউনের মধ্যে আমরা অন্য কোন কাজও করতে পারি নি। সরকারিভাবে যে সাহায্য পেয়েছি তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এখন আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নদীতে স্রোত কমে যাওয়ার কারণে পলি পরে নদীর গভীরতা কমে যাচ্ছে। এ কারণে ইলিশ অন্য দিকে চলে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইলিশ না পাওয়ার আরও একটি বড় কারণ হচ্ছে সুন্দরবন সংলগ্ন নদ নদীতে অসাধু জেলেরা বিষ দিয়ে মাছ ধরছে। এই বিষ মিশ্রিত পানি খেয়ে ইলিশসহ অন্য প্রজাতির মাছ মারা যাচ্ছে। তাই নদীতে ইলিশ বড় হলেও তারা ওই পানির ভয়ে অন্য রুটে চলে যাওয়ায় পশুর ও সুন্দরবনের নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না।
