পিরোজপুরে লকডাউন মানছে না লোকজন
পিরোজপুরে জেলা পর্যায়ে ৪ পৌরসভা এলাকায় জেলা প্রশাসনের দেওয়া লকডাউন মানা হচ্ছে না। নেই লকডাউনে প্রশাসনের কোন কঠোর ভূমিকাও। সকাল থেকেই শহরে চলছে ইজিবাইক, রিক্সাসহ সকল প্রকার যানবাহন। পিরোজপুরের শহরের বেশীরভাগ দোকানপাটও খোলা রয়েছে। চলছে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে মানুষের ঘোরাফেরা। মাস্কবিহীন চলফেরাসহ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানছে না লোকজন।
তবে লকডাউনের প্রথম দিনে শহরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের অভিযান পরিচালনা করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে যারা মাস্কবিহীন চলাফেরা করছে তাদের ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা করা হচ্ছে।
পিরোজপুর সদর পৌরসভাসহ জেলার স্বরূপকাঠী, ভান্ডারিয়া এবং মঠবাড়িয়া পৌরসভা এ ৪টি পৌরসভা এলাকায় শনিবার সকাল থেকে ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। তবে এ বিষয়ে আগে থেকে তেমন কোন প্রচরণাও ছিল না প্রশাসনের। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লকডাউনের বিষয়ে শহরে শহরে একটা মাইকিং হয়েছে মাত্র।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে এক ব্যবসায়ী বেশ ক্ষোভের সাথেই বলেন, “কিসের লকডাউন-কোথায় পিরোজপুরে আছে লকডাউন, সবকিছু তো আগের মতোই চলছে।”
পিরোজপুর পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান জানান, দোকানপাট তো খোলা রাখার কথা না। বিষয়টি দেখছি। আর ইজিবাহক, রিক্সা বা অন্যান্য যানবাহন পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলার কথা রয়েছে।
এদিকে, পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ২১ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় শতাধিক স্যাম্পল পরিক্ষা করে ৪০টি স্যাম্পল পজেটিভ পাওয়া গেছে। জেলায় করোনা সংক্রমণের হার শতকরা ৩৭ শতাংশ।
সিভিল সার্জন ডা. মো. হাসনাত ইউসুফ জাকী জানান, কয়েকদিন ধরে করোনা রোগীর চাপ বেশি রয়েছে। প্রতিদিনই প্রায় রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে জেলাতে সংক্রমণের হার শতকরা ৩৭ শতাংশ।
জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, জেলায় করোনা পরিস্থিতি অবনতিশীল। জেলার মধ্যে পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া এবং নেছারাবাদ পৌরসভায় লকডাউন চলছে। লকডাউন সফল করার জন্য নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটবৃন্দ মাঠে থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে যাচ্ছে। এখনো যারা নিয়ম মেনে লকডাউন মানছে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
