প্রধান সূচি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের রহস্য উন্মোচন ॥ গ্রেফতার ৪

পিরোজপুর-১ (নাজিরপুর, সদর ও নেছারাবাদ) আসনের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের রহস্য উন্মোচন হয়েছে।

নির্মিত ভিডিওতে সীমা আক্তার ও সাথী আক্তারের কপালে সিঁদুর ও হাতে শাখা পরিয়ে হিন্দু পরিচয়ে মন্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কটূক্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নাজিরপুর, নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) থানাসহ পৃথক ৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃংখলা বাহিনী।

জানা গেছে, সম্প্রতি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি ও তার পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে কয়েকজন নারী-পুরুষকে দিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় মন্ত্রীর ছোট ভাই একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও প্রকাশক নুরে আলম সিদ্দিকী শাহিন তথ্য প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বৈত নাগরিক পিরোজপুরের নাজিরপুরের শ্রীরামাকাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণ জয়পুর গ্রামের সচীন মজুমদারের ছেলে সুব্রত মজুমদার টুপাই (৩৫), একই উপজেলার উত্তর জয়পুর গ্রামের রানী মন্ডল (৪০), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছিরনগর উপজেলার দাইতমন্ডল গ্রামের সোবাহান ভুঁইয়ার মেয়ে সীমা আক্তার (৩৯) এবং কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরীর আব্দুস সত্তারের মেয়ে সাথী আক্তারকে (৪১) গ্রেফতার করেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতদের দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন ভিডিও তৈরিতে একটি প্রভাবশালী মহলের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরের কারণে মন্ত্রী, তার পরিবার ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এমন ঘটনার অভিযোগ মিলছে।

ভিডিও তৈরি করা নারী সীমা আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, তিনি হিন্দু নন, মুসলিম। তাকে টাকার বিনিময়ে হিন্দু সাজিয়ে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। তাদের জবানবন্দিতে সুব্রত মজুমদার টুপাই নামের মূল অর্গানাইজার ধরা পড়ে। তিনি এসব তথ্য দিয়েছেন।

এদিকে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে নাজিরপুর, পিরোজপুর সদর ও নেছারাবাদে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

নাজিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শেখ আব্দুল লতিফ বলেন, মন্ত্রীর পিতা উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের তারাবুনিয়া গ্রামের মো. আব্দুল খালেক। ৩ ছেলে নিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে আমরা এই এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা তার বাড়িতে বসে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালাতাম। অথচ তাকে (মন্ত্রীর বাবা) স্বাধীনতা বিরোধী বলে অপ্রচার করা হয়েছে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial