প্রধান সূচি

এলাকার নেতৃত্ব ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে সেখানে উন্নয়ন সাধিত হয় : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, এলাকার নেতৃত্ব ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই উন্নয়ন সাধিত হয়। সকল প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়ন মনোস্ক করা গেলে জীবনমানের পরিবর্তন হবেই। ঐক্যের স্বার্থে নেতাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটলে ভবিষ্যতে নেতৃত্বের জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি অতীত ও বর্তমান কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে চড়া মাশুলও দিতে হয়।
রবিবার বিকেলে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার জেপি’র নেতা-কর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ৫০ বছরে দেশের আরও পরিবর্তন হতে পারতো। এ সময়কালে দুর্নীতি-অন্যায়-অবিচার ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাঙ্খিত পর্যায়ের পরিত্রাণ-প্রতিবিধান মানুষ পায়নি। যেমন পায়নি স্বাধীন দেশ উপযোগী উন্নয়নের প্রকৃত স্বাদ। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, বিদ্যুৎ ইত্যাদি অবকাঠামোগত পরিবর্তনের সদ্ব্যবহার করে অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা লাভ তথা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে উন্নয়নের সূচক।
তিনি বলেন, আমরা ৩৬ বছর ধরে অব্যহতভাবে দক্ষিণাঞ্চলকে অবহেলিত-পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে প্রচেষ্টা চালিয়ে একটি উন্নয়নমূখী জনপদে রূপ দিতে পারছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অঞ্চলের অতীতকাল থেকে চলমান উন্নয়ন কাজের কথা জানেন এবং বলেন। তিনি যখন ক্ষমতায় থাকেন তখন দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন অনেক গতিময় হয়। শেখ হাসিনা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বলেই এলাকার জনগণ কাঙ্খিত উন্নয়নের এ সুযোগ পাচ্ছে। কাউখালী-ভান্ডারিয়া-ইন্দুরকানীতে আমরা সকলে মিলে কাজ করি বলে এখানে উন্নয়ন কাজ বেশী বেশী করে হয়। তেমনি এখানকার মানুষও সুখে-শান্তিতে থাকে। আল্লাহর হুকুম তথা এলাকার মানুষের মধ্যে একতা ও উন্নয়ন আকাঙ্খা থাকলে মানুষের কল্যাণে ঈমানের সাথে কাজ করা সম্ভব হয়। উন্নয়নের জন্য, কাজের জন্য যেমন নৈতিকতা থাকতে হয়, তেমনি এই কাজের পথ দীর্ঘ ও সুদূর প্রসারী।
তিনি আরও বলেন, আমরা গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার ইত্যাদি অর্জন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে পাকিস্তান আমলে লড়াই করেছিলাম। সে লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।
কাউখালী উপজেলা জেপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিয়া মনু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা জেপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম নসু।
এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ভান্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহিবুল হোসেন মাহিম, ভান্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভান্ডারিয়ার পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ভান্ডারিয়ার ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান টুলু, কাউখালী উপজেলা জেপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল মাহফুজ পায়েল, যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রহমান খান নান্নু ও নেপাল চন্দ্র দে, সমাজসেবী আব্দুল লতিফ খসরু, জেপি নেতা শেখ লিটন জাতীয় মহিলা পার্টি’র উপজেলা সভানেত্রী অধ্যক্ষ আফরোজা সনু, যুবসংহতির সভাপাতি জিয়াউল হাসান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান মনু, জাতীয় ছাত্রসমাজের সভাপতি তারিকুল ইসলাম কাইয়ুম শেখ, সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন প্রমুখ।
সভার শুরুতে জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কাউখালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী মো. নূরুল আমীন ও আমরাজুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী ফিরোজ আলমকে নির্বাচনে মনোনয়নের চিঠি হস্তান্তর করেন।
সভা শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন নাংগুলি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মতিন।
উপজেলা জেপি’র কার্যালয় অনুষ্ঠিত দোয়া ও মোনাজাতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জেপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial