কাউখালীর সন্ধ্যা ও গাবখান নদীর মোহনায় তীব্র ভাঙ্গন
পিরোজপুরের কাউখালীর সন্ধ্যা ও গাবখান নদীর মোহনায় হঠাৎ করে তীব্র নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়ে পিরোজপুর-স্বরূপকাঠি সড়কের আমরাজুড়ি-আশোয়া ফেরিঘাট ও দুই পাড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীনের আশংকা দেখা দিয়েছে।
গত কয়েক দিনের তুমুল বৃষ্টিপাতে ভাঙ্গনের বিস্তার আরও বাড়ছে বলে এলাকাবাসি জানান। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব আমরাজুড়ি, আশোয়া গ্রাম ও সোনাকুর ফেরিঘাট এলাকা থেকে এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন কবলিত।
প্রতিদিন সন্ধ্যা ও গাবখানের গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে এসব এলাকার কৃষি জমি আর মানুষের বসতি। ইতিমধ্যে বিলীন হয়েছে আমরাজুড়ি সার্কেল অফিস (রাজস্ব), আশোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমড়াজুড়ি বাজার। গন্ধর্ব জানকীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকার আশপাশ জুড়ে চলতি বর্ষা আর জোয়ারের প্লাবনে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমড়াজুড়ি ফেরীঘাট বাজারের ব্যবসায়ীরা আতংকের মধ্যে রয়েছেন। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে পিরোজপুর-স্বরূপকাঠী রুটের গাবখান চ্যানেলের আমরাজুরী ফেরিঘাট যে কোন মূহুর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আমরাজুড়ি ফেরীঘাটের সুপার ভাইজার মো. শাহ আলম জানান, গত এক যুগ ধরে কাউখালীর সন্ধ্যা ও গাবখান নদীর মোহনায় অব্যাহত ভাঙ্গন চলছে। হঠাৎ করে এ এলাকায় তীব্র ভাঙ্গন দেখা দেয়। এতে ফেরীঘাটটি বিলীনের মুখে পড়েছে। গত দুই বছরে ঘাট দুটি অন্তত ২০ দফা স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা ও গাবখান নদীর মোহনায় ভাঙ্গন রোধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে ভাঙ্গনের তীব্্রতা বেড়েই চলছে।
আমরাজুড়ি ফেরীঘাট বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার গাজী জানান, আমরাজুরি মূলবাজার এখন সন্ধ্যা নদীর মাঝখানে। ইতিমধ্যে আমরাজুড়ি ফেরিঘাট, বাজারের অন্তত ২৫টি দোকান পাট ও কয়েকশত বাড়ি ঘর বিলীন হয়েছে।
গত এক মাসে আমরাজুড়ি ফেরিঘাটের ছয়টি দোকান নদীতে ভেঙ্গে হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে নদী শাসনের উদ্যোগ না নিলে ঘাট, বাজার ও বাড়ি ঘর রক্ষা করা যাবে না। ফেরিঘাট মসজিদ ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
আমড়াজুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সেখ সামসুদ্দোহা চাঁন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ভাঙ্গন রোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যুগযুগ ধরে সন্ধ্যা নদী ভাঙ্গছে। প্রতিদিন এ জনপদের মাটি, স্থাপনা ও বৃক্ষরাজি সন্ধ্যার করাল গ্রাসে চলে যাচ্ছে। ভাঙ্গন রোধে জরুরী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
