প্রধান সূচি

মেধাবী শিক্ষার্থী ক্রীড়াবিদ আইরিনের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার

সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, ঘুড়ি উড়ানো, কিংবা কেউ বিপদে পড়লে সবার আগে এগিয়ে আসা, ফুটবল, ক্রীকেট আর কাবাডি দলের ক্যাপ্টেন এসএসসি পরীক্ষার জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী আইরিনের উচ্চ শিক্ষা লাভের আশা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এমন সংবাদ শুনে মানবিক ভালবাসার সাহায্যের হাত প্রসারিত করলেন ক্রীড়াবান্ধব পিরোজপুরের পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান। তিনি মেধাবী শিক্ষার্থী ক্রীড়াবিদ আইরিনের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। উপহার দিয়েছেন নগদ ১০ হাজার টাকা।

শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপহার হিসেবে আইরিনের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকার খাম তুলে দেন পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) কাজী শাহনেওয়াজ, মহিলা কাবাডি দলের কোচ মো. শফিকুল ইসলাম আজাদ।

পিরোজপুর জেলা পুলিশের মহিলা কাবাডি দলের ক্যাপ্টেন আইরিন আক্তারের বাড়ি ভান্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে।

তার বাবা মো. কালাম ভূইয়া পেশায় একজন জেলে এবং মা আমেন খাতুন গৃহিণী।  তিন মেয়ে ও এক ছেলের সংসারে উপার্জনক্ষম একমাত্র জেলে পিতার আয়ে কোন রকম চলছে সংসার। বড় মেয়ে বিএ অর্নাস শিক্ষার্থী, মেজো মেয়ে ক্রিড়াবিদ আইরিন এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বানিজ্য বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং ছোট মেয়ে ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একমাত্র ভাই ড্রাইভার এর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। দরিদ্র পিতার সংসারে ভাল লেখাপড়া করে এসএসসি পাস করলেও আইরিন লেখাপড়া বন্ধ করে গার্মেন্টস এর চাকুরী করে পরিবারের বোঝা কমাতে চাচ্ছে।

ভান্ডারিয়ার ভিটাবাড়িয়া নুরজাহান হাবীব আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সনজিব কুমার মজুমদার জানান, বানিজ্যিক বিভাগের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী আইরিন কোন প্রাইভেট ছাড়া নিজ চেষ্টায় এসএসসিতে জিপিএ-৫ সহ জেনারেল কোঠায় বৃত্তি পেয়ে বিদ্যালয়ের সুনাম অর্জন করেছে। পাশাপাশি সকল সহশিক্ষা কার্যক্রমের সে ছিল মধ্যমণি।

উপজেলা একাডেমীর সুপারভাইজার মো. নজরুল ইসলাম জানান, শৃঙ্খলা আর নিয়মিত অধ্যবসায় এর কারনে এই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত সফল হওয়ার সম্ভবনা লুকিয়ে আছে।

আইরিন আক্তার বলেন, সুযোগ পেলে নিয়মিত লেখাপড়া আর ক্রিকেটার হাওয়ার স্বপ্ন। কিন্ত বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে কতোটা সফল হতে পারবো জানিনা। কখনও বাবার কাজে সহযোগিতা আবার কখনো মায়ের কাজে সহযোগিতা করেই কাটাছে সময়। সবাই যখন নতুন কলেজে ভর্তি হওয়ার আনন্দে সময় কাটাচ্ছে তখন নিজের লেখাপড়া নিয়ে অনিশ্চয়তা আর উৎতকন্ঠার মাঝে সমাজের বিত্তশালী কোন সহৃদয়বান মানুষের অপেক্ষা সময় পার করছি বলে জানান।

অবশেষে সকল অনিশ্চিতা দূর করে পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এর সার্বিক সহযোগিতায় লেখাপড়াসহ সকল প্রকার সহযোগিতার প্রদান করা হবে বলে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

পিরোজপুর পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান মেধাবী শিক্ষার্থী আইরিন আক্তারের লেখাপড়ার খরচের দায়িত্ব নিয়ে বলেন, তুমি এগিয়ে যাও আমি তোমার লেখাপড়াসহ সকল প্রকার সহায়তার করে তোমার প্রতিভা বিকাশের আন্তরিক চেষ্টা করবো বলে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial