কাউখালীতে অসহায় পরিবারের পাশে ইউএনও খালেদা খাতুন রেখা
স্বামীহারা অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. খালেদা খাতুন রেখা। তিনি যে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মো. সোহাগ দু’টি কিডনি বিকল হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩১জুলাই মারা গেছে।
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমরাজুড়ি আবাসন প্রকল্পে বসবাসরত দু’টি সন্তান ও স্ত্রী রেখে মারা যাওয়া দিন মজুর সোহাগের ‘পরিবারটি চলবে কীভাবে?’ শিরোনামে প্রতিবেদন বিভিন্ন পত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আর তা দেখে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা.খালেদা খাতুন রেখা ওই পরিবারকে একটি সেলাই মেশিন, ২টি ছাগল, ৬০ কেজি চাল, বাচ্চাদের জন্য শিশু খাদ্য সামগ্রী ও সোহাগের বাবা-মায়ের জন্য শাড়ি, লুঙ্গি পৌঁছে দেন।
সোমবার বিকেলে আমরাজুড়ি গ্রামে আবাসন প্রকল্পে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. খালেদা খাতুন রেখা, উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস আক্তার,উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র ভদ্র, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা খান জুলহাস কবীর, সমাজ সেবক আব্দুল লতিফ খসরু, ইউপি চেয়ারম্যান সেখ সামসুদ্দোহা চাঁন ওই পরিবারের বাড়িতে গিয়ে ওই সকল মালামাল তুলে দেন।
মৃত সোহাগ কাউখালীর পশ্চিম আমরাজুড়ি গ্রামের আব্দুল গাফফারের ছেলে। সোহাগ আবসন প্রকল্পে একটি খুপরি ঘরে স্ত্রী, ছোট ছোট দুটি ছেলে নিয়ে বসবাস করতো। সোহাগ পেশায় একজন দিনমজুর। গত এক বছর ধরে সে কিডনি রোগে অসুস্থ ছিল।
চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পারায় সাহায্যর জন্য বিভিন্ন মানুষের কাছে কাছে ঘুরে বেড়িয়েছেন। এর মধ্যে দেখা হয় কাউখালী উপজেলার সমাজসেক আব্দুল লতিফ খসরুর সাথে। তিনি সোহাগকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে দেখা করেন। ওই সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবাইকে দিনমজুর অসহায় সোহাগের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসার জন্য ফেসবুকে একটি পোষ্ট দেন। পরে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে চিকিৎসার জন্য অনুদান দেয়া হয়। পাশাপাশি সোহাগের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসেন অনেকে।
পরে গত ১১ জুলাই সমাজসেবক আব্দুল লতিফ খসরু সোহাগকে বরিশাল শেরে এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন চিকিৎসার জন্য। ওই দিন তার অপারেশন হয়। তবে সেখানে করোনার কারণে বেশ কয়েকদিন সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পরে বাড়িতে এলে গত ৩১ জুলাই সোহাগ মারা যান। এরপর থেকেই পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়ে।
সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ মৃত সোহাগের বাড়িতে গেলে সোহাগের বাবা গাফফার, মা রহিমোন, স্ত্রী জামিলা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
এ সময় সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে পরিবারটি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সোহাগের স্ত্রী বলেন, ‘আপনারে দেইখ্যা মনে হইছে আমি অহন একলা না।’
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. খালেদা খাতুন রেখা বলেন, এর আগেও আমরা কাউখালীর অনেক পরিবারকে সহায়তা দিয়েছি। আর এবার আবাসনের সোহাগের অসহায় পরিবারটিকে সহায়তা দিতে পেরে আত্মতৃপ্তি পেয়েছি।
