প্রধান সূচি

প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় নানা দূর্ঘটনা ॥ দুর্ভোগ চরমে

খানাখন্দে বেহাল মোংলা-খুলনা মহাসড়ক

মোংলা-খুলনা মহাসড়কের ১০ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ সড়কের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলছে পণ্যবাহী ট্রাকসহ শত শত যানবাহন। মোংলা থেকে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের বেহালদশা। গুরুত্বপূর্ন এ মহাসড়কের মোংলা বন্দরের বাসষ্ট্যান্ড থেকে দিগরাজ পর্যন্ত মোংলা কর্তৃপক্ষ দেখভাল করলেও বাকী অংশ জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে। তাই এ দুটি সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে যাতায়াতকারী যানবাহন ও সাধারণ পথচারীদের দূর্ভোগের অন্ত নেই। সড়কে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় নানা দূর্ঘটনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের দ্বিতীয় মোংলা সমুন্দ্র বন্দর। এ বন্দরে আমদানী-রপ্তানী পণ্যসহ স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা উদপাদনমুখী ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্থলপথে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম মোংলা-খুলনা মহাসড়ক। মহাসড়কটির বন্দর কর্তৃপক্ষের ৫ কিলোমিটার এবং  সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৫ কিলোমিটার নিয়ে মোট ১০ কিলোমিটার জুড়ে খানা খন্দে পরিনত হওয়ায় নানা দূর্ভোগে পড়ছে হাজার হাজার পণ্যবাহী ট্রাকসহ সকল প্রকার যানবাহন ও পথচারিরা। মোংলা-খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ থেকে মোংলার দিগরাজ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার জুড়ে বর্ষার আগে থেকেই খানা খন্দে পরিনত হয়েছে। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে কাদা, পানি আর খানা-খন্দ পেরিয়ে থেকে চলাচল করছে হাজার হাজার যানবাহন। যাত্রীবাহী বাসের চালকরা বলছেন এক ট্রিপের পর আর গাড়ি চালানো যায় না। সড়কটি এতটা খারাপ অবস্থা যে, একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই পণ্যসহ যাহবাহনগুলো  দূর্ঘটনায় পড়ছে।

মোংলার বাসস্ট্যান্ড থেকে দিগরাজ এবং রামপালের অংশে সড়কের অধিকাংশ এলাকা ভাঙ্গাচোরা আর গর্তে ভরা। কোনো কোনো স্থানে সড়ক ডেবে উঁচু-নিচু হয়ে আছে। একটু বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে কাঁদা হয়ে যায়। মোংলা বন্দরের পণ্য নিয়ে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শত শত ভারী যানবাহন চলাচল করছে। এ অবস্থায় সড়কটি সংস্কার কাজে সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে তেমন কোন সমন্বয় নেই। এ দুটি সংস্থা পরস্পরের উপর তাকিয়ে সড়ক সংস্কারে ধীর গতিতে এগুচ্ছে।

এ সড়কে চলাচলকারী গাড়ি চালক আব্দুর রহিম, মহিদুল ও আলামিন বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে যায়। ভারি যানবাহন চলাচল করায় সড়কের সংস্কার কাজ বেশি দিন টেকে না। এতে নানা ভোগান্তির পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে গাড়ি চাকা ও যন্ত্রাংশ। যানবাহনের চালকরা জানান, নিয়মিত গতানুগতিক মেরামত কাজ চললেও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে ফের ভেঙে যায় ।

এদিকে, ধারণ ক্ষতার অতিরিক্ত পণ্য নিয়ে যানবাহন চলাচল করায় এই সড়কটি টিকছে না বলে দাবী মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের।

এদিকে, যানবাহন চলাচলে উপযোগী রাখতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সোলিং এইচ.বি.বি.’র কাজ চলমান রয়েছে। বর্ষায় কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানান শ্রমিকরা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজিম কাওসার বলেন, অত্যাধিক ওভার লোড সড়কটি ২২ ফুট চওড়া ও সরু থাকায় এক লেনে গাড়ি চলে এ কারণে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বর্ষার কারণে বিটুমিনের কাজ করা সম্ভব নয়। তাই সোলিং এইচ বি বি’র কাজ (ইটের সোলিং) চলছে। বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, খুলনা-মোংলা জাতীয় মহাসড়কের বাগেরহাটের দৈর্ঘ্য ৩০ কিলো ৫৫০ মিটার। এরমধ্যে বেলাই ব্রীজ থেকে দিগরাজ বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা সম্ভব না। তবে আমরা প্রতিনিয়ত সোলিং এইচবিবি করে রেগুলার কাজ করে যাচ্ছি যাতে যাতায়াতের কোন সমস্যা না হয়। তিনি আরো বলেন, জাতীয় সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রধান বা অন্যতম কারণ হচ্ছে ওভারলোড। এছাড়া ১৯৮৪ সালে সড়কটি নির্মাণ কাজ হওয়ার পর থেকে অদ্যাবদি পুনরায় নির্মাণ এবং প্রশস্থকরণ করা হয়নি। বর্তমানে সড়কটিতে যানবাহন চলাচলের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে আমরা এই রুটিন মেইন্টেনেন্সের আওতায় এর কাজ করা হবে। এছাড়া চলমান সমস্যার স্থায়ী সমাধানে রাস্তাাটি ৬ লেনে উন্নীত করতে একটি প্রস্তবনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়।

এদিকে, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, বন্দর এলাকার আওতাধীন বাসস্ট্যান্ড থেকে দিগরাজ পর্যন্ত মহাসড়কের ৫ কিলোমিটার সংস্কার কাজ ও দেখভাল কর্তৃপক্ষ করে থাকে। তবে সড়কের বর্তমান যে বেহালদশা তার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ খুব বেশি দায়ী নয় বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বন্দর এলাকায় গড়ে ওঠা ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহনের জন্য সড়কের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক ও যানবাহন চলা করায় সড়কটি সংস্কার করলেও দূর্ভোগ লাগব হচ্ছে না। এছাড়া পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে সড়কে খানাখন্দ তৈরি হচ্ছে। সড়কের এ ভগ্নদশা থেকে উত্তরণে ইতিমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের সার্ভেসহ প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। চলমান সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ৬ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial