শরণখোলায় শিক্ষক নেতাদের স্কুল বন্ধের হুমকি
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানী ও আত্মহত্যার চেষ্টার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি শরণখোলা উপজেলা শাখা।
শিক্ষক নেতাদের দাবী, মিথ্যা অভিযোগে দুই শিক্ষককে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না করলে উপজেলার সকল স্কুল-মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়া হবে। ষড়যন্ত্রমূলক এ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার রাত ৮টায় উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতারা শরণখোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি রায়েন্দা পাইলট সরকারী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সুলতান আহমেদ গাজী ও সহকারী শিক্ষক শাহিনুজ্জামান শাহিনের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে ওই ছাত্রীর মা শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার দুপুর ২টায় বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি শরণখোলা উপজেলা শাখা ও উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
মানবন্ধনে বক্তরা বলেন, শিক্ষক সমাজের সম্মান নষ্ট করতেই রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুলের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। একটি কুচক্রি মহলের প্ররোচনায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে মামলাটি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক সমাজ, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে ধীরে ধীরে সম্পর্ক অবনতি ঘটবে। যা শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়বে।
শিক্ষক নেতারা তিন দিনের আল্টেমেটাম দিয়ে বলেন, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে উপজেলার সকল স্কুল ও মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়া হবে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান, তাফালবাড়ি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মানিক চাঁদ রায়, মাতৃভাষা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. অলিয়ার রহমান, বি. কে. নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খান মতিয়ার রহমান, রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নান্না মিয়া, আর.কে.ডি.এস. পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হাওলাদার, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সরোয়ার হোসেন, শিক্ষক নেতা শহিদুল ইসলাম খান প্রমুখ।
