প্রধান সূচি

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সাহায্যে ব্লু ইকোনমি 

পিরোজপুরের পাড়েরহাটসহ উপকূলে ১৬টি মেরিন ফিশারিজ সার্ভেল্যান্স চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নীল অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) প্রথম কর্মসূচি বাস্তবায়নে মৎস্য অধিদপ্তর বঙ্গোপসাগর উপকূলে ১৬টি চেকপোস্ট স্থাপন করবে। চেকপোস্ট সমূহের নেটওয়ার্কিং সিস্টেম পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট লিংক ব্যবহার করা হবে। সাগরে মাছ ধরার নৌকার উপর নজরদারী, অবৈধভাবে মাছ ধরা ও অতি আহরণ বন্ধ, বৈদেশিক মাছ ধরা নৌকার বাংলাদেশের সীমানায় অনুপ্রবেশ রোধ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি কাজের জন্য এ ১৬টি মেরিন ফিশারিজ সার্ভেল্যান্স চেকপোস্ট স্থাপন করা হচ্ছে।

বিশ^ ব্যাংকের সহায়তায় মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলে বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে। বাণিজ্যিক ও আর্টিস্যানাল মৎস্য কার্যক্রমের পরিবীক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারী কার্যকর করার লক্ষ্যে নির্বাচিত ১৬টি জেলার কৌশলগত স্থান সমূহে এ চেকপোস্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এ স্থাপনার জন্য জমি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উদ্দিষ্ট স্থানে ১৬টি খাস খতিয়ানভূক্ত সরকারি জমি সন্ধান করা হচ্ছে জেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসের মাধ্যমে। উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরসহ বরিশাল বিভাগের অন্য চারটি জেলার সাথে খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে চেকপোস্ট স্থাপনের জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় জেলা অফিসে পত্র এসেছে।

পিরোজপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল বারী জানিয়েছেন, পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর সংলগ্ন সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে নির্মাণাধীন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র অথবা ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামে এ জেলার চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে।

বরিশাল শহরের পোর্ট রোড, ভোলার চর ফ্যাশন উপজেলার চরকুকরিমুকরির চরমানিক্কা ও দৌলতখান উপজেলার পাতারখাল, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর মৎস্য বন্দর এবং বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের কাছে বরিশাল বিভাগের বাকি পাঁচটি চেকপোস্ট নির্মাণ করা হবে জানান প্রকল্পের বরিশাল বিভাগের উপ প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম।

খুলনা বিভাগের উপ প্রকল্প পরিচালক সরোজ কুমার মিস্ত্রি বলেন, খুলনা শহরের রূপসা, বাগেরহাট সদর ও মংলা শহর এলাকায় এ বিভাগের তিনটি চেকপোস্ট স্থাপনের জন্য জমির সন্ধান করা হচ্ছে।

এ প্রকল্পের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ প্রকল্প পরিচালক অধীর চন্দ্র দাস জানান, কক্সবাজার সদরের জালিয়াপাড়া, টেকনাফ উপজেলার নুনিয়ার চর, কুতুবদিয়ার বড় ঘোপ, আনোয়ারা উপজেলার ফকিরহাট, সন্দ্বীপ উপজেলার বাংলা বাজার ঘাট, হাতিয়ার জাহাজমারা এবং লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগরের মতিরহাটে এ বিভাগের সাতটি চেকপোস্ট নির্মিত হবে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গাতে ইতিমধ্যে নির্মিত এ ধরণের একটি মেরিন ফিশারিজ সার্ভেল্যান্স চেকপোস্টের আদলে বাকি ১৬টি চেকপোস্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব চেকপোস্ট আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সম্পন্ন যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল সমৃদ্ধ হবে এবং একটি করে সার্ভার বোট থাকবে। পর্যবেক্ষণকালে সাগরে বা নদী পথে কোন ধরণের অনভিপ্রেত বা জরুরী সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে এই বোট নিয়ে কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাবেন। বিভিন্ন মৎস্য বন্দর থেকে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় এই চেকপোস্টে রিপোর্ট করে পাস নিতে হবে। এ সময় মাছ ধরা নৌকার বিএলসি, রুট পারমিট, বৈধ জাল, দক্ষ কর্মী ইত্যাদি বিষয়ও যাচাই করা হবে। নৌকা মৎস্য বন্দরে ফেরার পরে আহরিত মাছসহ অন্যান্য বিষয়ে পুনঃরায় পরীক্ষা করার কাজও করা হবে। জিপিএস সিস্টেমের মাধ্যমে মাছ ধরা নৌকার গতিবিধিও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। যা সাগরে ঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ সকল ধরণের দুর্যোগ সম্পর্কে সতর্ক বার্তা জেলেদের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। এ ক্ষেত্রে জেলে নৌকা গুলোতেও বিশেষ ডিভাইসযুক্ত যন্ত্র বসানো হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial