প্রধান সূচি

সুন্দরবনে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ মৌসুম শুরু

হাজার হাজার জেলের উপস্থিতিতে দুবলার চর সরগরম

শীত মৌসুমে সাগরে মাছ আহরণ ও বনের চরে শুঁটকি তৈরীর মৌসুমের শুরুতেই সুন্দরবনের দুবলার চরসহ আশপাশের চরগুলোতে কয়েক হাজার জেলে ট্রলার ও নৌকা নিয়ে সমবেত হয়েছে।

জেলেরা বৃহস্পতিবার সেখানে পৌঁছে নিজেদের আবাস নির্মানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কয়েক হাজার জেলের উপস্থিতিতে সাগর পাড়ের সুন্দরবনের দুবলা ও আশপাশের চর এলাকাগুলো এখন সরগরম হয়ে উঠেছে। বুধবার সুন্দরবন বিভাগের অনুমতি পাওয়ার পরই গভীর রাতে মোংলা, রামপাল, শরণখোলাসহ খুলনা, বরিশাল, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ আশপাশ জেলার কয়েক হাজার জেলে বনের গহীণে দুবলাসহ আশপাশের চরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে অধিকাংশ জেলে বহরের নৌকা ও ট্রলার ঘাঁটে এসে পৌঁছায়। শুক্রবার থেকে এসব জেলেরা ট্রলার ও নৌকা যোগে মাছ আহরণের জন্য গভীর সমুদ্রে জাল ফেলবে।

এবার ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ ৫ মাসের মৌসুমে মৎস্য আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ বাবদ বন বিভাগ ৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে। গত মৌসুমে এ খাত থেকে বন বিভাগ ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা রাজস্ব রায় করেছিল।

জেলে ও মহাজন সূত্র জানায়, প্রতি বছর শীত মৌসুমের ১ নভেম্বর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ে সুন্দরবনের দুবলার চরসহ আশপাশ এলাকার গভীর সমুদ্রে জেলেরা বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ আহরণ করে তা বনের চরে এনে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরী করে। সমুদ্র এ সময় অনেকটা শান্ত থাকায় জেলেরা এ সময়টাকে শুঁটকি তৈরীর উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নেয়।

খুলনা, বরিশাল, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ আশেপাশের জেলার কয়েক হাজার জেলে এ সময়ে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে সাগরের সুন্দরবন উপকূলে মাছ শিকার করে থাকে। পরবর্তিতে শিকার করা এ মাছের অধিকাংশই বনের বিভিন্ন চরে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরী করা হয়। শুঁটকি তৈরী শেষে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান দেয়া হয়। এছাড়া অনেক মৎস্য ব্যবসায়ী সরাসরি চর থেকে সামুদ্রিক কাঁচা মাছ কিনে তা বিক্রির উদ্দেশ্যে নানা জায়গায় সরবরাহ করেন। সুন্দরবনের শুঁটকি খেতে অন্যান্য স্থানের শুঁটকির চেয়ে তুলনামুলক সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা অনেকটাই বেশী। এ শুঁটকি বিদেশেও রফতানী করা হয়ে থাকে।

বন বিভাগ জানায়, জেলেদের জন্য এবার দুবলার চরে অস্থায়ী সহ¯্রাধিক জেলে ঘর ও জেলে-মহাজনদের জন্য অর্ধশত ডিপো ঘর স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হবে। ২৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থ নির্ধারণ করে ঘরের মাপও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে বৃহৎ আকারের ঘর তৈরি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বন বিভাগ।

জেলে ও মহাজন সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও শুঁটকি মৌসুমকে ঘিরে এ বছরও সুন্দরবনের দুবলার চর, মেহেরআলীর চর, আলোরকোল, অফিসকিল্লা, মাঝেরকিল্লা, শেলার চর ও নারকেলবাড়িয়ার চরে সমবেত হয়েছে হাজার হাজার জেলে-মহাজন।

সাগর পাড় এবং সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ৮টি চরের মৎস্য আহরণ, শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নিয়েই এ দুবলা জেলে পল্লী। দুবলা জেলে পল্লীর জেলেরা নিজেদের থাকা, মাছ ধরার সরঞ্জাম রাখা ও শুঁটকি তৈরির জন্য অস্থায়ী ডিপো ঘর ও মাচা তৈরি করে থাকেন। জেলেরা সমুদ্র মোহনায় বেহুন্দীসহ বিভিন্ন প্রকার জাল দিয়ে মাছ ধরে তা বাছাই করে মাছ শুঁটকি করে থাকেন।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, শুরু হতে যাওয়া শুঁটকি মৌসুমে দুবলার চরে অবস্থানরত জেলেরা সুন্দরবনের গাছ দিয়ে ঘর তৈরি বা জ্বালানি হিসেবেও তা ব্যবহার করতে পারবেন না। সকল কাঠ তাদেরকে সাথেই নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা এ আইন অমান্য করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, জেলে ও মৎস্যজীবীরা পাস-পারমিট ছাড়া সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করলে তাদের বিরুদ্ধেও সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial