প্রধান সূচি

এলাকায় আতংক ॥ প্রতিদিন টহল দিচ্ছে পুলিশ

মোংলায় স্কুল শিক্ষিকা নির্যাতনের মামলায় গ্রেফতার আতংক

মোংলার হলদিবুনিয়া গ্রামে সীমানা প্রাচীরের বিরোধ নিয়ে এক স্কুল শিক্ষিকার শ্লিলতাহানী ও হামলা মামলার ঘটনায় এলাকার খৃষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। দফায় দফায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার আতংকে বাড়ি ঘর ছেড়ে স্বপরিবারে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এ মামলার নারী-পরুষ আসামীরা। অপরদিকে বিবদমান দুই পরিবারের এ বিরোধে জড়িয়ে পড়ছেন এলাকাবাসী। আর এ নিয়ে অজানা ভয়ও রয়েছে গ্রামের সাধারণ নিরীহ মানুষের মধ্যে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোংলার চিলা ও চাঁদপাই ইউনিয়নের সীমান্তের গ্রাম উত্তর হলদিবুনিয়া। এ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে হিন্দু ও খৃষ্টান সম্প্রদায়ের সংখ্যাই বেশি। এখানকার পল্লী চিকিৎসক জুলিয়ান বৈরাগী জানান, শান্ত-সভ্য এ গ্রামের বাসিন্দারা ধর্মীয় রীতিনীতিতে বেশ বিশ্বাসী। কিন্তু খৃষ্টান সম্প্রদায়ের  (পরস্পর আত্মীয়) দিলিপ হালদার ও প্রতিবেশী রবিন মল্লিক দুই প্রতিবেশীর জমির সীমানা প্রাচীরের দীর্ঘ দিনের বিরোধ তাদেরকে অস্থির করে তুলেছে। স্থানীয় ক্যাথলিক মিশনের ধর্মযাজকসহ জনপ্রতিনিধিরাও কয়েক দফায় এ বিরোধ মিমাংসার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। সরকারি ভূমি জরিপকারীসহ চিলা ও চাঁদপাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রথম দফায় এ বিরোধ মিমাংসা করে। কিন্তু এ দ্বন্দ্ব থেকে যায় দুই পরিবারের মধ্যে। ক্যাথলিক মিশনের খুলনা অঞ্চলের প্রধান বিশপ জেমস রমেন ও পুরোহিত দানিয়েলসহ জনপ্রতিনিধিরাও কয়েক দফায় এ বিরোধ মিমাংসার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় বলে জানান গ্রামবাসী। আর দীর্ঘদিনের এ বিবাদের জের ও দিলিপ হালদারের বাড়িতে রবিন মল্লিকের ছাগল যাওয়া ও ক্ষেত খাওয়া নিয়ে ওই পুরানো বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয় গত ২০১৮ সালের নভেম্বরে। ওই সময় প্রথম দফায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনায় রবিন মল্লিকের মেয়ে প্রনতি মল্লিক বাদী হয়ে দিলিপ হালদারের ছোট ভাই তপন হালদারের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দায়ের করে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর দুপুরে দিলিপ হালদার সীমানা প্রচীরের ঘেরা-বেড়া সংস্কারের চেষ্টা করলে রবিন মল্লিকের স্ত্রী মারিয়া মল্লিক, মেয়ে মিশনারী স্কুলের শিক্ষিকা প্রনতি মল্লিক বাঁধা দিলে দুই পরিবারের নারী-পুরুষরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পরিবারের ৩ নারী সদস্য আহত হয়। পরে গুরুতর আহত স্কুল শিক্ষিকা প্রনতি মল্লিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য মোংলা থেকে খুলনায় পাঠানো হয়। এ ঘটনার ৯দিন পর গত ২৪ নভেম্বর স্কুল শিক্ষিকার পিতা রবিন মল্লিক বাদী হয়ে নারী-পুরুষসহ নির্দিষ্ট ১৩ জনসহ আরো অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় দিলিপ হালদারের স্ত্রী মান্না হালদার (৫০) ও তার ছোট ভাই জেমস হালদারের স্ত্রী পলিনা হালদার (৪৫)কে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপর এক আসামী হাবিব মোল্লা (৪০) আদালতে আত্মসমর্পন করেছেন।

এদিকে, এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন পরস্পর আত্মীয় খৃষ্টান সম্প্রদায়ের একাধিক পরিবার। আর আসামীদের ধরতে দফায় দফায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এ সকল পরিবারের নারী-পুরুষ আসামীরা বাড়ি-ঘর ছেড়ে স্বপরিবারে (শিশুসহ) পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ সকল পরিবারের স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনও অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা আনন্দ মন্ডল জানান, দিনরাত সমানতালে এলাকায় পুলিশের আনাগোনা, অভিযান ও টহল চলছে। তবে বিবদমান দুই পরিবারে চলমান সীমান প্রাচীরের বিরোধ ও মামলা দ্রুত নিস্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। দুই পরিবারে সীমানা প্রাচীরের এ দ্বন্দ্বে এখন পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন হলদিবুনিয়া গ্রামের খৃষ্টান সম্প্রদায়। আর এ নিয়ে গ্রামবাসির মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। গ্রামের হাট-বাজার ও চায়ের দোকানেও দুই পরিবারকে নিয়ে আলোচনার যেন শেষ নেই। গ্রামের দিনমজুর অরুন মন্ডল (৫০) জানান, দুই পরিবারে মধ্যকার এ দ্বন্দ্বের কারণে নিরীহ মানুষের মধ্যেও অজানা আতংক বিরাজ করছে।

মোংলার শেলাবুনিয়ার (পুরোহিত) ফা. দানিয়েল মন্ডল জানান, জমির সীমানা প্রচীর বিরোধে জড়িয়ে পড়া দু’পক্ষকে মিমাংসার জন্য চেষ্টা করছেন। তবে মামলা হওয়ার কারণে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রনের বাইরে রয়েছে। উদ্বুদ পরিস্থিতিতে স্থানীয় খৃষ্টান সম্প্রদায়কে শান্ত থাকার আহবান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নিজেদের সম্প্রদায়ের এ বিরোধ মিমাংসার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এ ব্যাপারে মোংলা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, মিশনারী স্কুল শিক্ষিকাকে মারধর ও শ্লীলতাহানীর ঘটনায় মামলা দায়েরর পর দুই আসামী ইমিমধ্যে আটক করা হয়েছে। অন্যবাকী আসামীদের আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় বিশৃংখলা এড়াতে পুলিশ টহল দিচ্ছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial