প্রধান সূচি

সাঈদী পুত্র মাসুদ সাঈদী কারাগারে

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদন্ডপ্রাপ্ত জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। পিরোজপুরের ইন্দরকানী থানায় দায়েরকৃত একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

অপর একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমীর মো. তোফাজ্জল হোসেন ফরিদ এবং সেক্রেটারী আব্দুর রবকেও কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুর জজ আদালতে হাজির হলে আদালতের বিচারক ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শামসুল হক তাদের জামিন আবেদন না’মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাসুদ সাঈদী ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর দায়েরকৃত ইন্দুরকানী থানার বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৬ সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। গত ৮ জানুয়ারী হাইকোর্ট তাকে ৬ সপ্তাহের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেয়। হাইকোর্টের দেয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি মঙ্গলবার পিরোজপুর জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ইন্দুরকানী থানার এস.আই ওহিদুজ্জামান বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী, জামায়াত সমর্থক হাফেজ মো. জাকির হোসেন ও ওবায়দুল্লাহসহ আরও ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর

রাতে উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী উপজেলার সাঈদখালী গ্রামের একটি বাড়ীতে বসে জামায়াত নেতাদের নিয়ে বৈঠক করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই বাড়ী থেকে ৫টি পেট্রোল বোমা ও কয়েকটি ককটেলসহ দুই জামায়াত কর্মীকে আটক করে। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাসুদ সাঈদী পালিয়ে যান।

এদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমীর তোফাজ্জেল হোসাইন ফরিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল রব মঙ্গলবার পিরোজপুর সদর থানায় দায়েরকৃত অন্য একটি বিস্ফোরক মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হলে আদলতের বিচারক ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দয়রা জজ মো. শামসুল হক তাদের জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আসামীরা গত বছরের ১১ ডিসেম্বর পিরোজপুর সদর থানায় দায়েরকৃত অস্ত্র ও বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলার আসামী। মামলার পর তারা হাইকোর্টের নির্দেশে ছয় সপ্তাহ জামিনে থেকে মঙ্গলবার নিম্ন আদালতে হাজির হন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর পিরোজপুর বাইপাস সড়ক এলাকায় পুলিশের নিয়মিত চেকিং কার্যক্রম চলাকালে দুপুর আড়াইটার দিকে বাগেরহাটের দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসকে (ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-০০৮১) পিরোজপুর নতুন বাসষ্ট্যান্ডের দিক যাওয়ার সময় সিগন্যাল দিলে সেটি সিগন্যাল অমান্য করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ মাইক্রোবাসটির পিছু নিলে সেটি বাইপাস এলাকার সাঈদী ফাউন্ডেশনের মাঠে ঢুকে পড়ে এবং গাড়িতে থাকা লোকজন পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ৩ জনকে আটক করে। এসময় অন্যরা পালিয়ে যায়। পুলিশ গাড়িটি তল্লাশী করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। এ মামলায় জেলা জামায়াত ইসলামী’র আমীর তোফাজ্জল হোসেন ফরিদ ও সেক্রেটারী আ. রবকে এজাহারভুক্ত আসামী করা হয়।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial