সম্মিলিতভাবে দেশ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে জোট-মহাজোট গঠন করেছেন … আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান ও পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, এবারের নির্বাচনে জোট-মহাজোট গঠন করে প্রধানমন্ত্রী যে অনন্য প্রয়াস নিয়েছেন তার উদ্দেশ্য হচ্ছে সকলে যাতে সম্মিলিতভাবে দেশ পরিচালনায় অংশ নিতে পারে। উন্নয়নের জন্য ঐক্য হচ্ছে প্রধান শর্ত। যে এলাকার মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকে সেখানে উন্নয়ন বরাদ্দ বেশী বেশী করে আনা যায়। আমি ৩৩/৩৪ বছর ধরে মানুষের মধ্যে ঐক্যের কথা বলে এসেছি। অনৈক্য-বিভেদ, ঝগড়া-ঝাটি-সংঘাত থাকলে সে এলাকার মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত হয়।
তিনি শনিবার বিকেলে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি উপজেলার পাড়েরহাট বন্দরে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
পিরোজপুর-২ আসনে (ইন্দুরকানি-ভান্ডারিয়া-কাউখালী) ১৪ দলের শরিক জাতীয় পার্টি-জেপি’র মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এ সময় উপস্থিত বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে তাঁর নির্বাচনী প্রতীক বাইসাইকেলে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে তাঁকে ভোট দেয়ার আহবান জানান।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আজ থেকে শতবর্ষ পূর্বে এক রাষ্ট্রনায়ক বলেছিলেন তোমরা আমাকে ঐক্য দাও, আমি তোমাদের উন্নয়ন দেবো। আমিও গত ৩৩/৩৪ বছর এই এলাকায় বলে আসছি মানুষ যদি এক থাকে নিজেরা ঝগড়া-বিবাদ না করে তাহলে সেখানে উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত হয়। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা সহজতর হয়। যে যার মত দল করেন, রাজনীতি করেন। কিন্তু উন্নয়নের প্রশ্নের সবার এক থাকতে হবে। এই ঐক্য স্থাপনের সফলতায় এই অঞ্চলে অসম্ভবকে সম্ভব করা সহজ হয়েছে। আমি যখন ঢাকায় গিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের দাবীর কথা তুলে ধরি তখন সবাই মনে করেন এ হচ্ছে দক্ষিণ অঞ্চলের কণ্ঠস্বর। যে অঞ্চলের মানুষ বিবাদ করে না, ঝগড়া করে না, সংঘাত করে না সেখানে শান্তি বজায় থাকে। এই দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ এক হয়ে এখানকার উন্নয়নের প্রচেষ্টা নিতে হবে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে সকল মানুষকে দলে দলে ভোট কেন্দ্রে
গিয়ে ভোট দিতে হবে। ভোট দেয়ার মধ্য দিয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধির প্রতি সমর্থন প্রকাশ পায়। যেনতেন ভাবে ভোটে জেতা যায়, কিন্তু তার মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই। আমি জনপ্রতিনিধি বা সংসদ সদস্য হওয়ার আগেই একাধিকবার মন্ত্রী হয়েছি। মন্ত্রী হয়ে ভোট করেছি। মানুষের ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়ার মধ্যে ভিন্ন ধরণের আনন্দ রয়েছে। এরমধ্যে মানুষের ভালবাসা, আল্লাহর রহমত, ঈমানের জোর, দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা বিদ্যমান থাকে। আল্লাহর রহমত, মানুষের ভালবাসা, ঈমানের জোর একজন মানুষকে জনগণের সেবা করার জন্য অবিরাম শক্তি যোগায়। এ রূপ মানুষের সাথে যখন ঐক্যবদ্ধ জনগণের সমর্থন, এলাকায় স্বস্তি, উন্নয়ন আকাঙ্খা তথা কাজের পরিবেশ উপস্থিত থাকে তখনই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ত্বরান্বিত হয়। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, এ আসনে সাইকেল মার্কায় ভোট দিলে এ ভোট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নৌকা মার্কায় দেয়া হবে। আমি ১০ বছর তাঁর সাথে মন্ত্রীত্ব করেছি। আপনাদের সমর্থন পেলে আগামীতেও এই এলাকার উন্নয়নে একজন উদ্যোক্তা হিসাবে অতীতের মত ভূমিকা রেখে যাবো।
ইন্দুরকানি উপজেলার পাড়েরহাট রাজলক্ষ্মী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনী সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জেপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি ও পাড়েরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল। এখানে এ সময় আরও যারা বক্তব্য রাখেন তারা হলেন, পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, পিরোজপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মুজিবুর রহমান খালেক, ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান ফুলু, ইন্দুরকানি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মতিউর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মৃধা, টুঙ্গীপাড়া আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারিক, ইন্দুরকানি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন বয়াতী, মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার ডাকুয়া, জেপি’র ইন্দুরকানি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মাতুব্বর, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন সেলিম, উপজেলা জেপি’র যুগ্ম সম্পাদক হারুন অর রশীদ পান্না, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহীন হাওলাদার, পাড়েরহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহবুদ্দিন হাওলাদার, পাড়েরহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম হাওলাদার, উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী দিলরুবা মিলন, উপজেলা মহিলা জাতীয় পার্টি’র সাধারণ সম্পাদিকা রাজিয়া সুলতানা রানী, উপজেলা যুব সংহতির সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব হোসেন হাওলাদার, ইউপি সদস্য মহসীন হাওলাদার প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে ছিলেন জাতীয় পার্টি-জেপি’র কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক সালাম বাহাদুর, কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সহ দপ্তর সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ বৈরাগী, ভান্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার প্রমুখ।
