প্রধান সূচি

ধেঁয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’

ধেঁয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে পিরোজপুর, বাগেরহাটসহ উপকূলীয় এলাকার মানুষের মধ্যে। ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডরের পর এটিই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বলে আশঙ্কা করায় পিরোজপুরসহ উপকূলবাসী চরম উৎকন্ঠার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছেন।

বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে পিরোজপুরসহ উপকূল এলাকায় আজ বুধবার দিনভর হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।

অবিরাম বর্ষণে পিরোজপুরসহ উপকূলের জনজীবনে অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দিন মজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষ কাজের অভাবে দুরাবস্থায় পড়েছে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ায় ভারতের উড়িষ্যা উপকূলে যে ঝড়ে আবহাওয়া বইছে তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। প্রধানত দক্ষিণাঞ্চলে এর প্রভাব খুবই প্রবল। বৃষ্টিতে মানুষজন ঘর থেকে বেরুতে পারছে না। গরীব খেটে খাওয়া মানুষ ঘরে বন্দী থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। অতিরিক্ত পানির চাপেও বেড়েছে। পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, জিয়ানগর, সদর উপজেলা, কাউখালী উপজেলার নদী অববাহিকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় তিতলি’র মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষে আজ বুধবার বিকেলে জরুরী ভিত্তিতে পিরোজপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থা কমিটির সভা করেছে জেলা প্রশাসক। বিকেল সাড়ে তিন টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ইন্দুরকানী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্নিঝড় তিতলি’র প্রভাবে ইন্দুরকানী উপজেলায় বুধবার দুপুর থেকে হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে চলছে। আকাশ সারা দিন  মেঘাচ্ছন্ন থাকায় কর্মজীবী মানুষ ঘর থেকে অনেকটা কম বের হয়েছে। দুপুর থেকে বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি অনেকটা কম ছিল। তেমনি যানবাহন ও চলাচল ছিল একেবারে কম। উপজেলার কঁচা ও বলেশ^র নদীর তীরবর্তী বাসীন্দারা ঘূর্নিঝড়ের আতংকে রয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্টিত হয়েছে। সভায় পিআইও’র রুমকে কন্ট্রোল রুম করে সার্বক্ষনিক খুলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সাইক্লোন সেল্টারগুলো খুলে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।এদিকে, ঘূর্নিঝড় ‘তিতলি’ আঘাত হানার আশংকায় মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৪নং স্থানীয় হুশিয়ারী সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। ঘূর্ণিঝড় সতর্কতার কারণে  মোংলা বন্দরে বিদেশী জাহাজ আগমন ও নিগর্মন বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় তিতলি’র প্রভাবে বুধবার সকাল থেকে বাগেরহাটসহ মোংলা বন্দর আশপাশ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি শুরু হযেছে। জেলার অভ্যন্তরীন রুটে সকল লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এদিকে, বঙ্গোপসাগরে আছড়ে পড়ছে বিশাল বিশাল ঢেউ। সুন্দরবনের সকল পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ। সুন্দরবনের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাগেরহাটের সকল উপজেলাসহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ কবলিত শরণখোলা, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ ও রামপালের স্থানীয় প্রশাসন বুধবার বিকেলে জরুরী বৈঠক করে সকল আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত  রেখেছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার মো. দুরুল হুদা জানান, ৪নং স্থানীয় হুশিয়ারী সংকেত জারির পর বুধবার দুপুরে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরে ঘোষনা করা হয়েছে রেড এলার্ট-২। ঘূর্ণিঝড় সতর্কতার কারণে বন্দরে বিদেশী জাহাজ আগমন ও নিগর্মন বন্ধ রাখা হয়েছে। জাহাজগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে র্নিদেশ দেয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে বন্দর জেটিতে অবস্থানরত সকল বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস কাজ দ্রুত শেষ করা হচ্ছে।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ঘূণিঝড়ের আগাম সর্তকতা হিসেবে সুন্দরবনের সকল পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ। সুন্দরবনের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ এর তান্ডব থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয়ে বলা হয়েছে। বন বিভাগের সকল নৌযান নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় তিতলি’র প্রভাবে মোংলা বন্দরসহ উপকূলীয় নদ-নদী উত্তাল হয়ে পড়ায় সকল ধরণের নৌযান চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। দেশের প্রধান মংলা বন্দরসহ তিনটি সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকায় ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত মাছ ধরার ফিশিং ট্রলার ও নৌকাসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অফিস

আবহাওয়া অফিস সূত্র জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের দক্ষিণ উড়িষ্যা ও উত্তর অন্ধপ্রদেশে আঘাত হানতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। নি¤œচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসে একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়া আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্য্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে মোংলা, খুলনা, বাগেরহাটসহ উপকূলীয় এলাকা জুড়ে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর প্রচন্ড উত্তাল রয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial