সরকারি বরাদ্দের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা আবশ্যক … আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান ও পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, সরকার জনগণের প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণের জন্য যে বরাদ্দ দেয় তার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা আবশ্যক। সুপেয় পানির জন্য এ অঞ্চলে গভীর নলকূপ স্থাপন করার কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিনামূল্যে এ সেবা প্রদান করছেন। এর জন্য আল্লাহর প্রতি যেমন কৃতজ্ঞ থাকতে হবে, তেমনি প্রধানমন্ত্রীকে শুকরিয়া জানাতে হবে। পাশাপাশি আগামীতে যাতে ক্রমান্বয় শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন তার জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি আজ বুধবার পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর ও ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে পৃথক দু’টি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরও বলেন, জনপ্রতিনিধিসহ সকলকে জনগণের মাঝে সকল সেবা পৌঁছে দিতে বেশী বেশী করে দায়িত্বশীল হতে হবে। নলকূপ, পল্লী বিদ্যুৎ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাট ইত্যাদি প্রয়োজন মিটাতে জনগণকে অর্থ খরচ করতে হয় না। গ্রামের মানুষ নিরীহ ও সহজ সরল বলে নলকূল-পল্লী বিদ্যুৎ ইত্যাদি প্রয়োজন মেটাতে অনেক সময় বঞ্চিত হন। মনে রাখতে হবে বরাদ্দকৃত নলকূপ একজনের নামে হলেও তিনি এর কেয়ারটেকার এবং এর ব্যবহার কমিউনিটি ভিত্তিক। সরকার কোন টাকার বিনিময় এসব সেবামূলক কাজ করে না। এ সেবা জনগণকেই বুঝে নিতে হবে এবং এর বাস্তবায়ন ও রক্ষনাবেক্ষণ যাতে সঠিকভাবে হয় তার জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। গ্রামে গ্রামে ব্যাপকভাবে গাছ লাগানো হচ্ছে। এই গাছের যতœ তথা পরিচর্যা করতে হবে। জনগণই যার ৭০/৭৫ শতাংশ মালিকানা পাবেন। আমাদের পরিবেশ সচেতন হতে হবে। যতদিন এলাকার বাসিন্দারা এক থাকবেন ততদিন আমাদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য সরকারের কাছ থেকে বেশী বেশী বরাদ্দ পাওয়া যাবে। আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি ১৮ বছর মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারে তিন বার এবং প্রেসিডেন্ট এরশাদ সরকারে দুই বার মন্ত্রীত্ব করছি। গত ৩৪ বছর ধরে এলাকার সাথে আছি, কিন্তু কখনও দলীয় রাজনীতির কথা বলি নাই। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে উন্নয়ন বরাদ্দ বেশী পাওয়া যায়। হানাহানি-সংঘাত-কাইজ্জা করলে উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত হয়। ভান্ডারিয়া শান্তিপূর্ণ জায়গা বলে প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে অনেকের চাইতে বেশী উন্নয়ন বরাদ্দ দেন। তিনি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বলে আমরা বেশী বেশী সুযোগ-সুবিধা পাই। তার প্রতি
আমাদের কৃতজ্ঞ থাকতে হবে এবং আবারও যাতে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হন তার জন্য তাকেই ভোট দিতে হবে। এ অঞ্চলের অধিবাসীদের ভাগ্য উন্নয়নের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা শান্তি চাই, মিলেমিশে থাকতে চাই। আল্লাহর রহমত ও মুরব্বীদের দোয়া ছাড়া কোন কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। আল্লাহ হচ্ছেন সব কিছুর দেয়ার মালিক তাই তার কাছেই চাইতে হবে। আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় দায়িত্ব পালন করি, আমরা তার আজ্ঞাবহ মাত্র।
গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং ভিটবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইউপি চেয়ারম্যান খান মো. এনামুল কবির পান্না।
পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ উভয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।
এসব সমাবেশে ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন আক্তার সুমী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি ফাইজুর রশীদ খসরু জোমাদ্দার, উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন, টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর হাফিজুর রশীদ তারিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রী বুধবার দুপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ‘পিরোজপুর জেলাধীন ভান্ডারিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিরাপদ পানি সরবরাহ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় গৌরীপুর ইউনিয়নে ২২২টি গভীর নলকূপ প্রাপ্তদের মাঝে বরাদ্দপত্র বিতরণ করেন।
বিকেলে তিনি একই প্রকল্পের আওতায় ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নে ২২৫টি গভীর নলকূপ প্রাপ্তদের মাঝে বরাদ্দপত্র বিতরণ করেন। মন্ত্রী এছাড়া ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের সুবিধা বঞ্চিত অসহায় ৫৪ জন নারীর মাঝে সমাজ কল্যাণ পরিষদ হতে প্রাপ্ত নগদ অর্থের চেক বিতরণ করেন। নলকূপের বরাদ্দপত্র বিতরণ কালে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পিরোজপুর বিভাগের নির্বাহ প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির, ভান্ডারিয়ার সহকারী প্রকৌশলী জয়দেব কুমার দত্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এ দু’টি ইউনিয়নে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ কল্পে দু’টি করে লবনাক্ততা দূরীকরণের প্লান্টও স্থাপন করা হচ্ছে।
