নাজিরপুরে মুরগির খাবারসহ ট্রলার ছিনতাই ॥ ১৬ দিনেও উদ্ধার হয়নি
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ফিড ব্যবসায়ী ইব্রাহিম গাজী নামে এক যুবলীগ নেতার দু’কর্মচারীসহ মুরগীর খাবার বোঝাই একটি ট্রলার ছিনতাই করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় ঘটনার দিনই যুবলীগ নেতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে রাতেই পুলিশ দু’কর্মচারীকে উদ্ধার করে। তবে ঘটনার ৫ দিন পর থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ঘটনার ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও মালামালসহ ট্রলারটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। যুবলীগ নেতা ইব্রাহিম গাজী উপজেলার দেউলবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য।
মামলা সূত্রে জানা যায়, যুবলীগ নেতা ইব্রাহিম গাজী ডিজি গ্রুপের টয়ো ফিড লিমিটেডের নাজিরপুর উপজেলার ডিলারশীপ নিয়ে ব্যবসা করে আসছিল। ইব্রাহিম ব্যবসা শুরু করায় উপজেলার ঝনঝনিয়া এলাকার ফিড ব্যবসায়ী পলাশ শেখের খামারী কমে যাওয়ায় তিনি ইব্রাহিম গাজীকে ফিড ব্যবসা বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রসহ হুমকি দিয়ে আসতেছিল। ঈদ উপলক্ষে ডিপো থেকে মুরগির খাবার সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে গত ২১ আগস্ট বন্ধকালীন সময়ের জন্য ১৬৭ বস্তা মুরগির খাবার খুলনা ডিপো থেকে সড়ক পথে এনে টুঙ্গিপাড়া উপজেলাধীন তরুর বাজার নামক স্থানে নামায়। সেখান থেকে ট্রলারযোগে দেউলবাড়ী গ্রামে তার গোডাউনে নেয়ার জন্য একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারযোগে তার কর্মচারী সোহাগ ও ট্রলার চালক রবিউল রওয়ানা হয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মালামালসহ ট্রলারটি নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ী গ্রামের গাছডাঙ্গা খাল নামক স্থানে পৌছলে ফিড ব্যবসায়ী পলাশ শেখ ১০/১২ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীসহ অন্য একটি ট্রলারে এসে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ইব্রাহিম গাজীর কর্মচারী ও ট্রলার চালককে জিম্মি করে মালামালসহ ট্রলারটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ সংবাদ পেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে মাটিভাঙ্গা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান খান ওইদিন রাত ১০টার দিকে উপজেলার ঝনঝনিয়া এলাকায় পলাশ শেখের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে দু’কর্মচারীকে উদ্ধার করে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পলাশ শেখ ছিনতাইয়ের ঘটনা অস্বীকার করে জানান, এ জাতীয় কোন ঘটনা ঘটেনি। ইব্রাহিম গাজী আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে।
মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মো. জসিম উদ্দিন বলেন, মামলাটি রুজু হওয়ার পর সরেজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। মালামালসহ ট্রলারটি উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
ভুক্তভোগী ইব্রাহিম গাজী বলেন, মালামালসহ ট্রলারটি ছিনতাই হওয়ায় আমি ঈদের ছুটির সময়ে খামারীদের খাবার সরবরাহ করতে না পারায় তাদের অধিক মূল্যে অন্যত্র থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হয়েছে। ফলে ওই খামারীদের কাছে আমার পাওনা টাকাও তারা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে আমি ৫০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি
মাটিভাঙ্গা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান খান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষনিক আমি ঝনঝনিয়া এলাকায় যাই এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলেও তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন রয়েছে বলে জানা যায়। এ সময় তারা বিষয়টি মিমাংসা করে নিবে বলে স্থানীয় এক চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইব্রাহিম গাজীর ট্রলারে থাকা দু’কর্মচারীকে হস্তান্তর করে। পরে মিমাংসা না হওয়ায় এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে।
