দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হচ্ছে স্বরূপকাঠী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা। ওই অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের দাবীকৃত ঘুষ না দিয়ে কোনো কাজই করাতে পারেন না শিক্ষকরা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বানিজ্যের বড় অংশিদার হন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাংগীর হোসেন। তার পরেও নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের কাগজপত্র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করতে শিক্ষা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাহিদামত ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফরওয়ার্ডিং দিতেও শিক্ষা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঘুষ দিতে হয়। এছাড়াও মহা-পরিচালকের দপ্তর থেকে চাওয়া বিভিন্ন তথ্যাবলী জমা দেয়ার ক্ষেত্রে দুর্বল প্রতিষ্ঠান প্রধানরা (প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী না থাকাসহ) পদে পদে ঘুষ দিয়ে নিজেদের চাকুরী বাঁচানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করেন। যদিও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাংগীর হোসেন কোন প্রকার ঘুষ নেয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ভুলত্রুটি থাকলে সেগুলো ঠিকঠাক করার পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হয়। সে কারনে প্রধান শিক্ষকদেরকে কাগজপত্র ঠিক করে আনতে একটু সময় দিতে হয়।
জানা গেছে, উপজেলার তিনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী পদে মো. যোবায়ের মীরকে গত ২৩ জুন নিয়োগ দেয় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি। যথাসময় এমপিও ভুক্তির জন্য দপ্তরী যোবায়েরের কাগজপত্র অফিসে জমা দেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন। এরপর দাবী করা ঘুষ না দেয়ায় দপ্তরী যোবায়েরের কাগজপত্র প্রায় দেড় মাস অফিসের ক্লার্ক আ. মান্নানের কাছে পরে থাকে। পরে অফিসের পিয়ন ফারুকের মধ্যস্থতায় শিক্ষা অফিসার জাহাংগীরকে ১০ হাজার ও ক্লার্ক মান্নানসহ দুই পিওনের জন্য পাঁচ হাজার টাকাসহ মোট ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দেয়ার পর কাগজপত্র পাঠানোর সমযোতা করা হয়। গত ১৫ আগষ্ট বিকেলে যুবায়ের ওই ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার পর তার নিয়োগের কাগজপত্র পিরোজপুর জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে ফরওয়ার্ডিং দেন শিক্ষা অফিসার জাহাংগীর হোসেন। এছাড়াও সদ্য বিএড পাশ করা শিক্ষকদের উচ্চতর বেতন স্কেল পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফরওয়ার্ডিং দিতে শিক্ষা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঘুষ দিতে হয়।
গাববাড়ি মীরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মনিকা সিকদার এবছর বিএড পাশ করেন। গত ১ আগষ্ট মনিকা সিকদার উচ্চতর বেতন স্কেল পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিক্ষা অফিসে জমা দেয়। তারপর দেনদরবার শেষে গত ১৪ আগষ্ট ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রঞ্জনকে সাথে নিয়ে মনিকা আট হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তারপর শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাংগীর হোসেন মনিকার কাগজপত্র জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে প্রেরন করেন। এভাবে শহীদ স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক পিন্টু হালদার, প্রতাব ও অঞ্জনা রানিসহ আরো ১০/১২ জনের কাগজপত্র প্রেরণ করতে মোটা অংকের ঘুষ নেন।
ঘুষ নেয়ার কথা অস্বীকার করে ওই অফিসের ক্লার্ক আ. মান্নান বলেন কাজগপত্র প্রেরণের ক্ষমতা স্যারের ( শিক্ষা অফিসারের)। সেখানে আমার কোনো হাত নেই বলে দাবী করেন ক্লার্ক মান্নান।
