পিরোজপুরে ঠিকাদারী কাজে চাঁদাদাবী ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ
পিরোজপুরে ঠিকাদারী কাজে বাঁধা দিয়ে চাঁদা দাবী এবং ঠিকাদারের লোকজনের উপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঁদাবাজদের হামলা ও মারধরের শিকার হয়ে বাবুল সেখ নামে এক শ্রমিক পিরোজপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। তার মুখমন্ডলে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। গত শনিবার পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের নতুন নির্মানাধীন কালিগঙ্গা ব্রীজের কাছে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় নতুন কালিগঙ্গা ব্রীজের নির্মান কাজের জায়গায় জারা বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা বালু ফেলার কাজ করছিল।
চাঁদা দাবী এবং ঠিকাদারী কাজে বাঁধা প্রদান ও শ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় পিরোজপুর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহম্মদ মাঈনুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ব্রীজ নির্মান কাজের জন্য বালু ফেলার কাজের নিয়োজিত ঠিকাদার মো. গিয়াস উদ্দিন পিরোজপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে নাভানা গ্রুপের পাওয়া নির্মানাধীন কালিগঙ্গা নতুন ব্রীজের কাজের জায়গায় বালু ফেলার সাব-ঠিকাদারী কাজ পায় জারা বিল্ডাস। সম্প্রতি জারা বিল্ডার্স উক্ত জায়গায় বালু কাজ শুরু করলে কলাখালী ইউনিয়নের কলাখালী গ্রামের মৃত রুস্তুম ডাকুয়ার ছেলে মো. মাসুদ ডাকুয়া, মৃত আউয়াল সিকদারের ছেলে মো. ফুয়াদ সিকদার, মৃত সেজন ডাকুয়ার ছেলে লিটন ডাকুয়া, পান্ডাডুবি গ্রামের শাজাহান ডাকুয়ার ছেলে মো. সোহেব ডাকুয়া, মো. মালেক খানের ছেলে মো. জুলফিকার আলী খানের নেতৃত্বে ৭/৮ জনের একটি সন্ত্রাসী দল বিভিন্ন সময়ে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। তাদের দাবীকৃত চঁদা না দেয়ায় গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মাসুদ ডাকুয়ার নেতৃত্বে উক্ত সন্ত্রাসী দল লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নতুন নির্মানাধীন কালিগঙ্গা ব্রীজের কাজের বালু ফেলার স্থানে এসে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেয় এবং কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের উপর হামলা করে মারধর করে। তাদের হামলায় শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। এ সময় বাবুল সেখ নামে এক শ্রমিককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তার মুখমন্ডল রক্তাক্ত জখম হয়। তাকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঠিকাদার মো. গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ব্রীজ নির্মান কাজের বালু ফেলার কাজের বাঁধা দেয়া ও চাঁদা দাবীর পিছনে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে কলাখালী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৃত হারুন অর রশীদের ছেলে সোহলে সরদার। তার মদদেই মাসুদ ডাকুয়া গংরা এসব কাজ করে চলছে। তিনি জানান, সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য সোহেল সরদারের বিরুদ্ধে ঢাকার নিউমার্কেট থানা ও গাজিপুর থানাসহ জিডিও রয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম জিয়াউল হক জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
