সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের নিম্নমুখী হচ্ছে পাশের হার ও শিক্ষার মান
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সেরা বিদ্যাপিঠ হিসেবে পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের নাম যুগ যুগ ধরে সমাদৃত। এই কলেজেই লেখাপড়া করে খ্যাতনামা হয়েছেন পিরোজপুরের অনেক গুনী ব্যক্তি। তবে বিগত কয়েক বছর ধরেই মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে শিক্ষার মানের। পাশাপাশি কমেছে পাশের হার।
২০১০, ২০১৪ ও ২০১৫ সাল ছাড়া বিগত আট বছরে শতকরা ৬০ ভাগের বেশি পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি এই কলেজ থেকে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ৭৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৪৩৬ জন আর জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩ জন।
বিগত বছরগুলোতে কলেজটি থেকে এইচএসসি পাশ করে অনেক শিক্ষার্থী প্রতি বছর মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল ও বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেত। তবে বর্তমানে এখানকার শিক্ষার্থীদের কাছে এটা স্বপ্নের মত।
কলেজে দায়িত্বরত অনেক শিক্ষকদের স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে কলেজের দায়িত্ব ঠিকমত পালন না করাই শিক্ষার মানে অধপতনের প্রধান কারন বলে মনে করেন কলেজটির সাবেক শিক্ষার্থীরা। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণেও ব্যর্থতা রয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষের।
তবে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, এসএসসি পাশের পর অধিকাংশ মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঢাকাসহ দূরবর্তী বিভিন্ন কলেজে গিয়ে ভর্তি হয়। পিরোজপুর সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজে কম পরীক্ষার্থী পাশের এটা একটা কারণ। এছাড়া কলেজে ভর্তির পর অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করে না। যার ফলে তার পরীক্ষায় ফেল করে বলে মনে করেন তিনি।
কলেজ অধ্যক্ষ দাবী করে বলেন, এ বছরে যারা কলেজে নতুন ভর্তি হয়েছে তাদের ব্যাপারে শক্ত অবস্থানে রয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। যাতে পরবর্তী পরীক্ষায় তারা ভালো ফলাফল করতে পারে।
